বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী সংস্থা বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (BCCI) তাদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে (Central Contract) বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। মূলত দলের প্রধান পেসার জাসপ্রিত বুমরাহর অনন্য পারফরম্যান্স এবং তিন ফরম্যাটেই তাঁর অপরিহার্যতাকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বোর্ড সূত্রে খবর, গত বছর বাতিল করে দেওয়া ‘এ প্লাস’ (A+) ক্যাটাগরি আবারও ফিরিয়ে আনার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ফিরছে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি: বুমরাহ-ই তুরুপের তাস ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বেতন কাঠামোতে আগে চারটি স্তর বা Grade ছিল— এ প্লাস, এ, বি এবং সি। এর মধ্যে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটাররা বার্ষিক ৭ কোটি রুপি রিটেইনারশিপ ফি পেতেন। বাকি তিনটি ক্যাটাগরির (A, B, C) জন্য বরাদ্দ ছিল যথাক্রমে ৫, ৩ এবং ১ কোটি রুপি। সাধারণত যারা টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটেই নিয়মিত খেলেন, তাদেরই এই শীর্ষ তালিকায় রাখা হতো।
গত বছর পর্যন্ত বুমরাহর পাশাপাশি বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও রবীন্দ্র জাদেজা এই ক্যাটাগরিতে ছিলেন। তবে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে কোহলি ও রোহিতের অবসর এবং জাদেজার ফরম্যাট পরিবর্তনের কারণে বোর্ড এই শীর্ষ স্তরটিই বিলুপ্ত ঘোষণা করেছিল। ফলে বুমরাহকেও নামিয়ে আনা হয়েছিল ‘এ’ ক্যাটাগরিতে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে বুমরাহ-ই একমাত্র ভারতীয় ক্রিকেটার যিনি জাতীয় দলের হয়ে তিন ফরম্যাটেই সমানভাবে দাপট দেখাচ্ছেন। তাই তাঁকে যথাযথ পারিশ্রমিক ও মর্যাদা দিতেই এই ক্যাটাগরি পুনঃপ্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বোর্ড।
ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট ও অল-ফরম্যাট পারফরম্যান্স নির্বাচক এবং টিম ম্যানেজমেন্টের মতে, বুমরাহ কেবল একজন বোলার নন, বরং ভারতের বোলিং ইউনিটের প্রাণভোমরা। মাঝে মাঝে Workload Management বা কাজের চাপ কমানোর জন্য তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হলেও, বড় কোনো টুর্নামেন্ট বা সিরিজের ক্ষেত্রে তিনি সবসময়ই প্রথম পছন্দ। তিন ফরম্যাটেই এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে তাঁকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রাখাটা এক প্রকার ‘বেতন বৈষম্য’ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই তাঁকে প্রমোশন দিয়ে আবারও ৭ কোটি রুপির ক্লাবে ফিরিয়ে আনা এখন কেবল সময়ের দাবি।
অক্ষর প্যাটেল ও অন্যান্যদের ভাগ্য পরিবর্তন কেবল বুমরাহ নন, বিসিসিআই-এর নতুন এই পরিকল্পনায় আলোচনায় আছেন অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেলও। বর্তমানে তিনি টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন, যা তাঁর বর্তমান পজিশন ও পারফরম্যান্সের বিচারে অনেকটাই কম। বোর্ড মনে করছে, পারফরম্যান্স অনুযায়ী প্রাপ্য বেতন না পাওয়া ক্রিকেটারদের তালিকাটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এছাড়া তরুণ ও প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রেও নতুন কিছু গাইডলাইন আসতে পারে।
পেশাদারিত্ব ও নতুন দিগন্ত বিসিসিআই-এর এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্রিকেটে পেশাদারিত্বের এক নতুন বার্তা দেবে। পারফরম্যান্স এবং ফরম্যাট অনুযায়ী ক্রিকেটারদের মূল্যায়ন করা হলে তা তরুণ খেলোয়াড়দের আরও উৎসাহিত করবে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর দাপট বাড়ছে, সেখানে জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে এমন সম্মানজনক বেতন কাঠামো ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আগামী বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) বা সংশ্লিষ্ট কমিটির বৈঠকে এই নতুন বেতন কাঠামো ও ক্যাটাগরি পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে পারে।