প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটের বড় হারের পর নিউজিল্যান্ডের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল সিরিজে টিকে থাকার। ঘরের মাঠে সেই চ্যালেঞ্জে দাপুটে জয় দিয়ে সিরিজে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে কিউইরা। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। মূলত ডেভন কনওয়ের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং বোলারদের সম্মিলিত আক্রমণে প্রোটিয়ারা খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে।
কনওয়ের ফিফটি ও ক্লার্কসনের ক্যামিও টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে নিউজিল্যান্ডকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও টম লাথাম। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৮ রান যোগ করে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন তারা। যদিও মাঝে লাথাম এবং টিম রবিনসন দ্রুত ফিরে যান, তবে একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন কনওয়ে। তার ৪৯ বলে ৬০ রানের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ২টি নান্দনিক ছক্কা।
মাঝপথে নিক কেলির ১২ বলে ২১ এবং অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের ১৪ বলে ২০ রানের কার্যকর ইনিংস নিউজিল্যান্ডকে ভালো অবস্থানে রাখে। তবে ইনিংসের শেষের চিত্র পাল্টে দেন জশ ক্লার্কসন। মাত্র ৯ বলে ২৬ রানের বিধ্বংসী এক ‘ক্যামিও’ খেলেন তিনি, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট (Strike Rate) ছিল ২৮৮-এর ওপরে। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া ম্যাককঞ্জির ১২ বলে অপরাজিত ১৮ রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৭৫ রানের লড়াকু পুঁজি পায় ব্ল্যাক ক্যাপসরা। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে উইয়ান মুল্ডার ২ উইকেট নিলেও রান আটকানোয় ব্যর্থ ছিলেন অন্যান্য বোলাররা।
কিউই বোলিং তোপে ধ্বংসস্তূপ দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই খেই হারিয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের গতি আর নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইনআপ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০৭ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ইনিংস স্থায়ী হয় মাত্র ১৫.৩ ওভার।
দলের পক্ষে একমাত্র লড়াকু ইনিংস খেলেন জর্জ লিন্ডে, তার ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান। বাকি ব্যাটারদের মধ্যে রুবিন হারমান (১৯) এবং উইয়ান মুল্ডার (১৬) কিছুটা চেষ্টা করলেও পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। দলের পাঁচজন ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
লুকি ফার্গুসন ও বেন সিয়ার্সের রাজত্ব নিউজিল্যান্ডের এই জয়ে মূল কারিগর ছিলেন পেসার লুকি ফার্গুসন ও বেন সিয়ার্স। দুজনেই ৩টি করে উইকেট নিয়ে প্রোটিয়া মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন। এছাড়া অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার তার মাপা স্পিনে ২ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। অভিজ্ঞ জেমস নিশাম ও ম্যাককঞ্জি নেন ১টি করে উইকেট।
সিরিজের সমীকরণ এই জয়ের ফলে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এখন ১-১ সমতা বিরাজ করছে। হ্যামিল্টনের এই পারফরম্যান্স নিউজিল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে ডেভন কনওয়ের ফর্মে ফেরা এবং বোলারদের এই বিধ্বংসী রূপ সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে নতুন করে ভাবনায় ফেলবে।