• খেলা
  • ‘ইসরায়েল ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই’: কাবুলে ভয়াবহ হামলায় ফুঁসে উঠলেন নাভীন উল হক

‘ইসরায়েল ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই’: কাবুলে ভয়াবহ হামলায় ফুঁসে উঠলেন নাভীন উল হক

খেলা ১ মিনিট পড়া
‘ইসরায়েল ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই’: কাবুলে ভয়াবহ হামলায় ফুঁসে উঠলেন নাভীন উল হক

আফগানিস্তানের রাজধানীতে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ৪০০ প্রাণহানি; রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবীর কণ্ঠেও ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগ।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সংঘটিত এক ভয়াবহ বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি (Geopolitics) ও ক্রীড়াঙ্গনে বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পাকিস্তানের এই আকস্মিক বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় স্তম্ভিত বিশ্ববিবেক। ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর এটিই আফগানিস্তানের মাটিতে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই নৃশংসতার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন আফগান ক্রিকেট তারকারা, যেখানে নাভীন উল হকের এক বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নাভীন উল হকের বিস্ফোরক তুলনা আফগান পেসার নাভীন উল হক তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাকিস্তানের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরতে গিয়ে ইসরায়েলের আগ্রাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের তুলনা টেনে লেখেন, "ইসরায়েল ও পাকিস্তানের শাসনের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।" নাভীনের এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যা দুই দেশের চরম উত্তপ্ত কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

রশিদ খানের ‘যুদ্ধাপরাধ’ (War Crime) তকমা আফগান ক্রিকেটের পোস্টার বয় রশিদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) তার ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। কাবুলের এই বিমান হামলাকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি লিখেছেন, "বেসামরিক মানুষের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা চিকিৎসা কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো—তা ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত—একটি স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ (War Crime)। মানবজীবনের প্রতি এমন অবহেলা কেবল ঘৃণা এবং সহিংসতাই বাড়াবে।" রশিদ খানের এই বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

হাসপাতালে হাহাকার: মোহাম্মদ নবীর আবেগঘন বর্ণনা কাবুলের একটি হাসপাতালে বোমা হামলায় চিকিৎসা নিতে আসা নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী। তিনি একটি হৃদয়বিদারক দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে লেখেন, "২৮ রমজানের রাতে যখন মায়েরা হাসপাতালের ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে সন্তানদের নাম ধরে ডাকছিলেন, ঠিক তখনই পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বোমায় তাদের সব আশা নিভে গেল।" নবীর এই পোস্টটি যুদ্ধে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির (Civilian Casualties) এক করুণ চিত্র তুলে ধরেছে।

পাকিস্তানের অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, তারা কেবল নির্দিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর (Armed Groups) অবস্থানের ওপর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়েছে এবং বেসামরিক হতাহতের অভিযোগটি ‘বিভ্রান্তিকর’। তবে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, বিমান হামলায় হাসপাতালের বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

আঞ্চলিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার সংকট বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত সপ্তাহেও পাকিস্তানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে (Military Base) হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে কাবুল সীমান্তে অভিযান চালিয়েছিল ইসলামাবাদ। তবে এবারের হামলার ব্যাপকতা এবং বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে (Regional Stability) বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। এই মানবিক সংকটে (Humanitarian Crisis) ক্রীড়াবিদদের এমন সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ প্রমাণ করে যে, পরিস্থিতি কতটা ঘোলাটে হয়ে উঠেছে।