• জাতীয়
  • রাজকীয় আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজকীয় আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
রাজকীয় আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে পাল্টেছে দৃশ্যপট; সংস্কার শেষে প্রস্তুত হচ্ছে হেয়ার রোডের বাসভবন, ঈদের পর পাকাপাকিভাবে সেখানেই থিতু হচ্ছেন সরকারপ্রধান।

রাষ্ট্রীয় প্রথা ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবার ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিবর্তন হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের দিন রাজধানী ঢাকার ৩০ হেয়ার রোডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় বিশিষ্ট নাগরিক, কূটনীতিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ‘গণভবন’ ব্যবহৃত হলেও ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

গণভবন থেকে জাদুঘর: এক ঐতিহাসিক রূপান্তর গত আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় গণমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গণভবনের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটিকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ (Memorial Museum) হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে ভবনটি বর্তমানে একটি জাতীয় স্মারক হিসেবে সংরক্ষিত হচ্ছে। জনআকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে নবনির্বাচিত সরকারও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে, যার ফলে প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী আবাসন হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকেই চূড়ান্ত করা হয়েছে।

যমুনার অন্দরমহল: প্রস্তুতি ও কারিগরি দিক বর্তমানে যমুনায় পুরোদমে চলছে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ (Routine Maintenance) কার্যক্রম। গণপূর্ত অধিদফতর (PWD) জানিয়েছে, বড় ধরনের কোনো অবকাঠামোগত পরিবর্তন নয়, বরং সরকারপ্রধানের বসবাসের উপযোগী করে তুলতে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রঙের কাজ করা হচ্ছে।

গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী আমরা যমুনার ভেতরের প্রতিটি অংশ পর্যবেক্ষণ করছি। মূলত সিলিংয়ের পুরনো অংশ মেরামত, হাইজেনিক ওয়াশ (Hygienic Wash) এবং দেয়ালে নতুন রঙের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই সমস্ত কারিগরি কাজ শেষ হবে।” প্রায় ৮ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই সুবিশাল ভবনের মোট আয়তন ৩৫ হাজার স্কয়ার ফিট, যার মধ্যে ৫.২ একর এলাকা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে বেষ্টিত।

ভৌগোলিক গুরুত্ব ও দাপ্তরিক সুবিধা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তার গুলশানের ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছেন। তবে গুলশান থেকে সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (PMO) দূরত্ব এবং অসহনীয় যানজটের কারণে যাতায়াতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে। যমুনার অবস্থান সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একেবারে মাঝামাঝি এবং নিকটবর্তী হওয়ায় এটি প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হেয়ার রোডের এই অবস্থানটি ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ (Command and Control) বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঈদের আনুষ্ঠানিকতা ও ভবিষ্যৎ নিবাস রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের সকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশি মিশনের প্রধান এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। যমুনার সুপরিসর লন এবং সুসজ্জিত ড্রয়িং রুমগুলো এই ধরনের ‘স্টেট ইভেন্ট’ (State Event) আয়োজনের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী যমুনায় দুটি বড় ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এর সক্ষমতা যাচাই করেছেন, যেখানে দেশি-বিদেশি কয়েকশ অতিথি অংশ নিয়েছিলেন।

সূত্রমতে, ঈদের এই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী পাকাপাকিভাবে যমুনায় তার আবাসন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থানান্তর করবেন। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ঐতিহাসিক এই সংস্কারের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও আভিজাত্যের প্রতিফলন ঘটবে।