পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা। উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার মানুষের অন্যতম প্রধান এই প্রবেশপথে এবার কোনো ধরনের জনভোগান্তি হবে না বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি সশরীরে পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
জনভোগান্তি লাঘবে কঠোর নজরদারি মহাসড়কের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সঠিক ও পরিকল্পিত Highway Management-এর কারণে এখন পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও কোনো Traffic Jam বা যানজট তৈরি হয়নি। আমাদের সবরকম প্রস্তুতি রয়েছে। যেভাবে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাতে ইনশাআল্লাহ যাত্রীদের আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হবে না।" তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে যেন রোজাদার যাত্রীদের ইফতার কিংবা সেহরি সড়কের ওপর করতে না হয়।
৪০ লাখ মানুষের বাড়তি চাপ ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি পোশাক শিল্প বা Garments Sector-সহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হওয়ায় আজ থেকে মহাসড়কে মানুষের চাপ কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী টুকু জানান, "আজ থেকে প্রায় ৪০ লাখ অতিরিক্ত মানুষ এই মহাসড়ক ব্যবহার করবে বলে আমাদের ধারণা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, ঈদযাত্রায় কোনোভাবেই যেন সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার না হয়। সেই লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা একটি Coordinated Effort বা সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাঠে কাজ করছে।"
মাঠপর্যায়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও তদারকি মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান এবং Surveillance জোরদার করা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি (DIG) রেজাউল করিম মল্লিক এবং টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (SP) মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার। প্রতিমন্ত্রী জানান, পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠপর্যায়ে Monitoring করছেন। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক কর্মীরাও রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন।
জনপ্রতিনিধির দায়বদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিগত বছরগুলোর যানজট ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, "অতীতে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে এবার আমরা পূর্বপ্রস্তুতি ও তদারকিতে কোনো ফাঁক রাখিনি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তাদের সেবা করা এবং ভোগান্তি লাঘব করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।" তিনি আশ্বস্ত করেন যে, কেবল ঈদ নয়, সারা বছরই এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক সচল রাখতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বর্তমানে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।