• আন্তর্জাতিক
  • মধ্যপ্রাচ্যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি: ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি: ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
মধ্যপ্রাচ্যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি: ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি

বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড; জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করায় চরম উত্তেজনার মুখে সৌদি-কাতার-আমিরাত, নিরাপদ আশ্রয়ে সরার নির্দেশ আইআরজিসি-র।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সাউথ পার্স’ (South Pars) গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিমান হামলা (Airstrike) চালিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে ইরানের বুশেহর অঞ্চলে অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (Petrochemical Complex) এই হামলা চালানো হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং আধা-সরকারি সংস্থা ফার্স নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই হামলার পর পুরো অঞ্চলে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং ইরান পাল্টা ভয়াবহ প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ভোরের আকাশ কাঁপানো হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি ফার্স নিউজের টেলিগ্রাম বার্তার বরাতে জানা গেছে, বুধবার ভোরে যখন সাধারণ মানুষ ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের স্থাপনা লক্ষ্য করে মিসাইল নিক্ষেপ করে। হামলার পরপরই বিশাল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত পৌঁছালেও আগুনের লেলিহান শিখা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে। এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা না গেলেও স্থাপনাটির একটি বড় অংশ বিধ্বস্ত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাউথ পার্স: কেন এই গ্যাসক্ষেত্র কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ? ইরানের সাউথ পার্স বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র, যা পারস্য উপসাগরে ইরান ও কাতার যৌথভাবে পরিচালনা করে। এটি কেবল ইরানের প্রধান জ্বালানি উৎসই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার (Global Energy Security) অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলাকে ইরান ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি জ্বালানি অবকাঠামো (Energy Infrastructure) লক্ষ্যবস্তু করার অর্থ হলো সংঘাতকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে যাওয়া।

পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা এই হামলার জবাবে ইরান অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলি এই স্পর্ধার জবাব হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এবার এমন সব ‘শত্রু অবকাঠামো’ (Enemy Infrastructure) লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে, যা আগে কখনও লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি এবং যেগুলোকে অত্যন্ত নিরাপদ মনে করা হত।

একই সঙ্গে আইআরজিসি (IRGC) প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য এক জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। তারা সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঁচটি প্রধান তেল ও গ্যাস স্থাপনার নিকটবর্তী এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের পাল্টা হামলা কেবল ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ না থেকে আঞ্চলিক জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ: কাতারের নিন্দা ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে কাতারের ‘নর্থ ফিল্ড’ সরাসরি সংযুক্ত থাকায় এই হামলায় কাতার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ (Dangerous and Irresponsible) পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি স্থাপনায় এ ধরনের হামলা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে (Market Value) চরম অস্থিরতা তৈরি করবে এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক উদ্বেগ ইসরায়েলের এই বিমান হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও মস্কোসহ বৈশ্বিক শক্তিগুলো পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরান তার হুঁশিয়ারি অনুযায়ী পাল্টা হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ (Regional War) শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বিশাল বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Tags: middle east energy security iran israel irgc gas field global oil airstrike south pars war alert petrochemical strike