• দেশজুড়ে
  • কৃষিতে বিপ্লব ও জলাবদ্ধতা মুক্তি: রংপুরে রমাকান্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পের মহাপরিকল্পনা উদ্বোধন

কৃষিতে বিপ্লব ও জলাবদ্ধতা মুক্তি: রংপুরে রমাকান্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পের মহাপরিকল্পনা উদ্বোধন

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
কৃষিতে বিপ্লব ও জলাবদ্ধতা মুক্তি: রংপুরে রমাকান্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পের মহাপরিকল্পনা উদ্বোধন

১০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা আর গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতির প্রতিশ্রুতি দিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘রমাকান্ত খাল’ পুনঃখনন কাজ। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে মর্ণেয়া ইউনিয়নের এই উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। প্রায় সাড়ে ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িতব্য এই Project-এর মাধ্যমে পাল্টে যাবে স্থানীয় ১০ হাজার হেক্টর জমির কৃষিচিত্র।

কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জানান, রমাকান্ত খালটি দীর্ঘদিন ধরে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। এর ফলে কৃষকরা যেমন Irrigation বা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন, তেমনি বর্ষা মৌসুমে তৈরি হতো অসহনীয় জলাবদ্ধতা। তিনি বলেন, "এই খাল পুনঃখননের ফলে কেবল পানি নিষ্কাশনই সহজ হবে না, বরং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বা Production Cost অনেকটা কমে আসবে। আমরা উন্নত Water Management নিশ্চিত করার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের কৃষিতে আমূল পরিবর্তন আনতে চাই।"

গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কথা উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি প্রান্তিক অঞ্চলে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই খাল খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে সরাসরি Job Creation বা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, কৃষি উৎপাদন বাড়লে গ্রামীণ Local Economy শক্তিশালী হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান বা Standard of Living উন্নত হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

টেকসই উন্নয়ন ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে Sustainable Agriculture বা টেকসই কৃষির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় খাল, নদী ও জলাশয় পুনরুদ্ধার করা এখন সময়ের দাবি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকিতে এই প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মানসম্মতভাবে শেষ করার কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে নিয়মিত Monitoring বা তদারকি জোরদার করা হবে।

আশাবাদী স্থানীয় জনপদ আলালচর চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কৃষকদের মতে, এই খালটি পুনঃখনন হলে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং আসন্ন চাষাবাদ মৌসুম থেকেই তারা সুফল পেতে শুরু করবেন। স্থানীয় অর্থনীতিতে এটি একটি Game Changer হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গঙ্গাচড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

গঙ্গাচড়ার এই রমাকান্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্প কেবল একটি মাটি খননের কাজ নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠীর ভাগ্য বদলের এক নতুন সোপান।

Tags: rangpur news job creation rural economy canal excavation agriculture growth water resources sustainable farming farhad hossain gangachara update irrigation system