ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশ কাতারের এলএনজি অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
২৬ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ক্ষয়ক্ষতি কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং আগের অবস্থায় ফিরে যেতে প্রায় ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে। এই বিশাল অঙ্কের ক্ষতি কাতারের গ্যাস রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সরবরাহ চুক্তিতে অনিশ্চয়তা উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় কাতার থেকে গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলো বিপাকে পড়তে পারে। বিশেষ করে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের সঙ্গে করা দীর্ঘমেয়াদী গ্যাস সরবরাহ চুক্তিগুলো বজায় রাখা এখন কাতারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার ‘ফোর্স মাজুরি’ (অনিবার্য পরিস্থিতি) ঘোষণা করতে পারে, যার ফলে তারা আইনত চুক্তি অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহে বাধ্য থাকবে না।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কাতার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। তাদের উৎপাদন সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্ববাজারে। এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিতে পারে এবং জ্বালানির দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও ঝুঁকি বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধুমাত্র কাতারের অভ্যন্তরীণ ক্ষতি নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।