বিদিশা এরশাদ তাঁর দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং তা থেকে প্রাপ্ত আঘাতের এক নির্মোহ চিত্র তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ভালোবাসা কখনো কমে না, তবে সময়ের প্রয়োজনে তা সাবধানী হয়ে ওঠে।
সহজ জীবন ও শৈশবের শিক্ষা বিদিশা নিজেকে একজন সহজ মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা লন্ডনে ব্রিটিশ পরিবেশে হওয়ায় তিনি সোজাসাপ্টা কথা বলা এবং রাখঢাকহীন জীবনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। এই সরলতা তাঁর জীবনের শক্তি হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দুর্বলতা হিসেবেও প্রকাশ পেয়েছে। তিনি মানুষের দুঃখ দেখে আবেগাপ্লুত হন এবং সাহায্য করতে পিছপা হন না।
সেবা ও ডিপ্রেশনের অভিজ্ঞতা আঠারো বছর বয়সে একটি ওল্ড এজ হোমে চাকরির মাধ্যমে তাঁর সেবামূলক কাজের সূচনা। সেখানে মুমূর্ষু রোগীদের প্রিয় খাবার রান্না করে খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পেতেন। তবে প্রতি সপ্তাহে প্রিয়জনদের হারিয়ে ফেলার বেদনায় একসময় তিনি বিষণ্ণতায় (ডিপ্রেশন) আক্রান্ত হন। চাকরি ছাড়লেও সেই মমত্ববোধ তিনি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন।
নিকটজনদের বিশ্বাসঘাতকতা ও আইনি লড়াই বিদিশার জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষদের কাছ থেকে। যাঁদের তিনি বছরের পর বছর আশ্রয় দিয়েছেন, সাহায্য করেছেন এবং কর্মসংস্থান করেছেন, তাঁরাই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং সম্পদ চুরির মতো জঘন্য কাজে লিপ্ত হয়েছে। ব্যক্তিগত সহকারী থেকে শুরু করে ড্রাইভার পর্যন্ত অনেকের হাতেই তিনি প্রতারিত হয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের করা মামলা লড়তে গিয়ে তাঁকে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে, যা তাঁর জীবনের এক চরম বিদ্রূপ।
রাজনীতি ও আগামীর ভাবনা রাজনীতি এবং জনসেবার ইচ্ছা আজও তাঁর মনে প্রবল, তবে মানুষের ভিড়ে মিশে কাজ করার সাহস অনেকটা কমে গেছে। পিঠে ছুরি মারার তিক্ত অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে দূরত্ব রেখেও ভালোবাসা যায়। তিনি মনে করেন, ভালো মানুষ হওয়া প্রশংসনীয়, তবে নিজের ওপর অন্যায় হতে দেওয়া কোনোভাবেই ভালোত্ব নয়।
উপসংহার বিশ্বাসঘাতকতা এবং জীবনযুদ্ধের এই কঠিন সময়ে তিনি মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। বিদিশা এরশাদের মতে, তিনি বদলে যাননি, বরং পরিস্থিতির কারণে কিছুটা সাবধানী হয়েছেন। মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁর আজও আছে, তবে তা এখন নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ের সাথে মিলেমিশে একাকার।