আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নিজের জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন ব্যাংকার মাকসুদা সাত্তার অদিতি। তার এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, লক্ষ্য স্থির থাকলে এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
শিক্ষাজীবন ও প্রাথমিক সংগ্রাম অদিতির শিক্ষাজীবনের ভিত্তি শুরু হয় যশোরের বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে। এরপর ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ২০১৩ সালে স্নাতক এবং ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তবে উচ্চশিক্ষার এই পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। অল্প বয়সে বিয়ে এবং দ্রুত মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার ফলে সংসার ও সন্তান লালন-পালনের গুরুদায়িত্ব তার কাঁধে চলে আসে।
সংসার ও স্বপ্নের টানাপোড়েন গৃহিণী হিসেবে পারিবারিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের অস্তিত্ব ও স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখা ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। একদিকে সংসারের যাঁতাকল, অন্যদিকে ক্যারিয়ার গড়ার আকাঙ্ক্ষা—এই দুইয়ের মাঝে এক নিরন্তর লড়াই চালিয়ে গেছেন তিনি। প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা এলেও মনের কোণে লক্ষ্য অর্জনের বিশ্বাস ছিল অটুট।
ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো পড়াশোনা শেষ করার পর পেশাজীবনে প্রবেশের লড়াইটা ছিল আরও দীর্ঘ। চাকরির বাজারে বারবার হোঁচট খেয়েছেন, অনেক ব্যর্থতা এসেছে। অনেক সময় হতাশায় ডুবলেও তিনি থেমে যাননি। প্রতিটি ব্যর্থতা তাকে শিখিয়েছে কীভাবে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নিরলস প্রচেষ্টার পর অবশেষে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে অফিসার হিসেবে যোগদানের সুযোগ পান।
নারী শক্তির জয়গান বর্তমানে সফলভাবে ব্যাংকিং পেশায় কর্মরত অদিতি মনে করেন, তার এই অবস্থানটি অনেকের কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে অসংখ্য নির্ঘুম রাত আর ত্যাগের মহাকাব্য। তার মতে, একজন নারী যদি নিজের ইচ্ছাশক্তিকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারেন, তবে পৃথিবীর কোনো বাধাই তাকে আটকে রাখতে পারবে না।
নারীর প্রকৃত শক্তি নিহিত তার ধৈর্যের গভীরতায় এবং হার না মানা মানসিকতায়। অদিতির এই জীবনগল্প প্রতিটি নারীকে নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে এবং নতুন করে স্বপ্ন দেখতে সাহস জোগায়।