বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বর্তমানে এক বিপজ্জনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে নির্বাচনী লড়াই নীতির বদলে প্রভাবের লড়াইয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। সম্প্রতি কালবেলায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে লেখক রহমান মৃধা এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরেছেন।
কাঠামোগত সংকট ও সংবিধানের সীমাবদ্ধতা সংবিধান একটি জাতির সর্বোচ্চ নীতিপত্র হলেও এর বাস্তব প্রয়োগ নির্ভর করে আইন প্রণেতাদের নৈতিকতার ওপর। যখন সংসদ সদস্যরা নিজেরাই দুর্নীতি, ঋণখেলাপি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তখন সংবিধানের ভাষা কেবল কাগজের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে। ন্যায়বিচার নথিতে থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটে না।
নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভোটের প্রতি মানুষের আস্থার অভাব। লেখক মনে করেন, ভোটাররা যদি বিশ্বাস করতে না পারেন যে তাদের ভোটই প্রকৃত প্রতিনিধি নির্ধারণ করে, তবে গণতন্ত্র কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। গণতন্ত্রের প্রাণ হলো আস্থা, যা ক্ষয়ে গেলে সংবিধানের ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
ঋণখেলাপি ও লুটপাটের রাজনীতি বিগত বছরগুলোতে ঋণখেলাপিরা ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে জিম্মি করে ফেলেছে, যার ফলে সাধারণ আমানতকারীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অন্যদিকে, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও জবাবদিহির অভাব প্রকট। এই সংস্কৃতি স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে যে—যোগ্যতা নয়, বরং প্রভাবই সফলতার চাবিকাঠি।
সংসদ শুদ্ধিকরণই সমাধানের পথ রাষ্ট্রকে বাঁচাতে হলে সবার আগে সংসদকে শুদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়নে কঠোর নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা, ঋণখেলাপি ও দুর্নীতিবাজদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
জনগণের দায়বদ্ধতা ও পরিবর্তনের শক্তি নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নেতৃত্ব সাধারণত সমাজেরই প্রতিফলন। সমাজ যদি দুর্নীতিকে সহ্য করে নেয়, তবে তার প্রতিফলন সংসদেই ঘটবে। তবে পরিবর্তনের চাবিকাঠিও জনগণের হাতেই রয়েছে। সমাজ যদি নৈতিক মানদণ্ড উন্নত করে এবং ভোটাররা দলীয় অন্ধত্বের উর্ধ্বে উঠে প্রতিনিধি বেছে নিতে শেখে, তবেই রাষ্ট্রের চরিত্র বদলানো সম্ভব।