• মতামত
  • রোহিঙ্গা সংকট সমাধান: নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই একমাত্র টেকসই পথ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধান: নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই একমাত্র টেকসই পথ

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার গ্যারান্টি ছাড়া টেকসই প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়; আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তায় বাড়ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ঝুঁকি।

মতামত ১ মিনিট পড়া
রোহিঙ্গা সংকট সমাধান: নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই একমাত্র টেকসই পথ

রোহিঙ্গা সংকট বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক ও ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। সাত বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে আশ্রিত লাখ লাখ রোহিঙ্গার নিজ ভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছা এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা না গেলে এই সংকট কেবল দীর্ঘস্থায়ী হবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।

সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়ে আছেন। বাংলাদেশ মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। বর্তমানে রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক ইস্যু নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও কূটনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

প্রত্যাবাসনের তিনটি অপরিহার্য শর্ত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় তিনটি বিষয় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত—নিরাপদ, স্বেচ্ছা এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। নিরাপদ মানে কেবল সহিংসতার অনুপস্থিতি নয়, বরং সেখানে আইনি সুরক্ষা ও জীবিকার সুযোগ থাকতে হবে। স্বেচ্ছা মানে কোনো চাপ ছাড়াই নিজ ইচ্ছায় ফিরে যাওয়া এবং মর্যাদাপূর্ণ মানে নাগরিক হিসেবে পূর্ণ অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা।

আস্থার সংকট ও মিয়ানমারের ভূমিকা রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং তাদের নিজ ভূমিতেই ফিরে যেতে হবে—বাংলাদেশ শুরু থেকেই এই অবস্থানে অনড়। কিন্তু প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় বাধা হলো আস্থার অভাব। অতীতে সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হওয়া রোহিঙ্গারা কেবল আশ্বাসে ফিরতে চাইছে না। তারা চায় নাগরিকত্বের স্বীকৃতি এবং নিরাপত্তার গ্যারান্টি। মিয়ানমার সরকার অবকাঠামো নির্মাণের কথা বললেও বাস্তুচ্যুতদের মনে বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মানবিক সহায়তা প্রদান করলেও রাজনৈতিক সমাধানে তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। কেবল নিন্দা প্রস্তাব বা বিবৃতির মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। মানবিক সহায়তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয় এবং দীর্ঘমেয়াদি শিবির-নির্ভরতা নতুন সামাজিক ও নিরাপত্তা জটিলতা তৈরি করছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার ঝুঁকি কক্সবাজারের স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ এবং জনমিতির ওপর রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের প্রভাব পড়ছে। ক্যাম্পে বেড়ে ওঠা বিশাল এক তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় তারা হতাশার শিকার হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে চরমপন্থা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এই সংকটের রাজনৈতিক সমাধান দ্রুত হওয়া জরুরি।

উপসংহার ও আগামীর পথ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে হবে। আঞ্চলিক শক্তিগুলো এবং বৈশ্বিক পরাশক্তিদের সমন্বিত চাপের মাধ্যমেই কেবল মিয়ানমারকে সঠিক পথে আনা সম্ভব। রোহিঙ্গাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াই পারে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে।

Tags: regional security rohingya crisis international diplomacy refugee-repatriation bangladesh-myanmar-relations