বিএফডিসির প্রধান প্রবেশ পথের বাঁ দিকে কারওয়ান বাজার রেলগেট সংলগ্ন নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে বসানো হয়েছে একটি খাবার হোটেল। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, হোটেলটির প্রবেশমুখ রাস্তার দিকে থাকলেও এর বাকি অংশ এফডিসির অভ্যন্তরীণ সীমানার ভেতরে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার দেয়াল ভেঙে এভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি দেওয়াকে নিয়মবহির্ভূত ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মানবিকতা বনাম নিয়ম লঙ্ঘন হোটেল ইজারা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বিএফডিসির এমডি মাসুমা রহমান তানি দাবি করেন, বিষয়টিতে নিয়মের চেয়ে মানবিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'এটি কালা ভুনার জন্য বিখ্যাত কালুর হোটেলকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তার আগের হোটেলটি ভেঙে দেওয়ায় সে আমাদের কাছে আবেদন করেছিল। মানবিক কারণে আমরা তাকে অনুমতি দিয়েছি। এছাড়া এর মাধ্যমে এফডিসির মাসিক আয়ের একটি পথ তৈরি হয়েছে।'
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এফডিসি একটি কেপিআইভুক্ত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও দেয়াল ভাঙার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র নেতারা। পরিচালক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম খোকন বলেন, 'নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে হোটেল করা দুঃখজনক। এটি ওনার অজ্ঞতা অথবা ক্ষমতার অপব্যবহার। কেপিআই এলাকায় কী করা যায় আর কী যায় না, তা হয়ত উনি জানেনই না।'
প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্যহানি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চিত্রনায়ক উজ্জ্বল এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এফডিসির এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, কোনো নিয়ম নীতি না মেনেই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই ইজারা দেওয়া হয়েছে। শুরুতে চার লাখ টাকা এবং মাসিক ভাড়ার পাশাপাশি প্রতিদিন বিনামূল্যে খাবার সরবরাহের অলিখিত চুক্তি রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এমডির অপসারণ দাবি এদিকে, এমডি মাসুমা রহমান তানিকে 'ফ্যাসিস্টের দোসর' আখ্যা দিয়ে তার অপসারণ দাবিতে সরব হয়েছে জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এফডিসিতে আয়োজিত এক জরুরি সভায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে অবিলম্বে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।