রহমান মৃধা রচিত এই নিবন্ধে মানুষের শারীরিক কাঠামোকে একটি ঘড়ির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ১২টি ঘর যেমন সময়কে ধারণ করে, মানুষের শরীরেও তেমনি রয়েছে হৃদয়, মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও কিডনির মতো কার্যকর ইউনিট। এই অভ্যন্তরীণ 'ফ্যাক্টরি' এবং বাহ্যিক 'কর্মীদের' (হাত, পা, চোখ, মন) সমন্বয়েই গড়ে ওঠে জীবন।
ঘড়ির প্রতীক ও মানুষের জীবন একটি ঘড়ি যখন সঠিক সময় দেয়, আমরা নির্দ্বিধায় তার ওপর ভরসা করি। কিন্তু ভুল সময় দিলে তা আমাদের বিভ্রান্ত করে। মানুষের ক্ষেত্রেও সচেতনতা ও নৈতিক সামঞ্জস্য ছাড়া জীবন দিকনির্দেশ হারিয়ে ফেলে। লেখক মনে করেন, ঘড়ির মতো মানুষও যখন ভুল পথে চলে, তখন সে নিজের ও সমাজের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
বিবেক ও বাহ্যিক অঙ্গের দায়বদ্ধতা চোখ দিয়ে শুধু দেখা নয়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্তও নিতে হয়। মুখ দিয়ে কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, সত্য প্রকাশের সাহস থাকতে হয়। মন ও মাথা যখন কেবল নিজের সুবিধার হিসাব কষে এবং আপসের যুক্তি দাঁড় করায়, তখনই নৈতিক অবক্ষয় শুরু হয়। এই অভ্যন্তরীণ ইঞ্জিনিয়ারিং ঠিক না থাকলে মানুষ তার মানবিক সত্তা হারিয়ে ফেলে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও বিশ্বাসের মর্যাদা নিবন্ধে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, যারা মানুষের অধিকারের জন্য সাহস দেখিয়েছিল, তাদের স্বপ্নের প্রতি অবিশ্বাসের ছুরি বসানো একটি সামাজিক বেইমানি। একবার মানুষ প্রতারিত হলে তার ভেতরের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
আত্মশুদ্ধি ও বর্তমান বাস্তবতা বর্তমান সমাজে ‘আমি কি বেইমান নই?’—এই প্রশ্নটি সবার নিজের বিবেকের কাছে করা উচিত। অন্যায় দেখে চুপ থাকা কিংবা সুবিধার জন্য নীরব থাকাও এক ধরনের প্রতারণা। রমজান মাসকে সামনে রেখে লেখক নিজের আত্মার সমালোচনা ও বিবেক পুনর্নবীকরণের আহ্বান জানিয়েছেন। ঘড়ি যেমন সময় দিতে ব্যর্থ হলে কেবল অলংকার হয়ে থাকে, মানুষও তেমনি নৈতিকতাহীন হলে কেবল আকৃতিতেই মানুষ থেকে যায়, সারবত্তায় নয়।