• মতামত
  • টিমের অভ্যন্তরীণ ফাটল ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রাণশক্তি রক্ষার কৌশল

টিমের অভ্যন্তরীণ ফাটল ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রাণশক্তি রক্ষার কৌশল

প্যাট্রিক লেনসিওনির গবেষণার আলোকে প্রাতিষ্ঠানিক অকার্যকরতার ৫টি কারণ এবং তা সমাধানের কার্যকর উপায়।

মতামত ১ মিনিট পড়া
টিমের অভ্যন্তরীণ ফাটল ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রাণশক্তি রক্ষার কৌশল

আধুনিক কর্পোরেট বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো 'টিমওয়ার্ক'। একটি প্রতিষ্ঠান কত দ্রুত তার লক্ষ্যে পৌঁছাবে, তা নির্ভর করে তার কর্মীদের পারস্পরিক সংহতির ওপর। তবে সূক্ষ্ম কিছু চারিত্রিক ত্রুটি বা মনস্তাত্ত্বিক বিচ্যুতির কারণে একটি সম্ভাবনাময় টিম তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে। প্যাট্রিক লেনসিওনির গবেষণার আলোকে টিমের অভ্যন্তরীণ অকার্যকরতা এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ করেছেন এম এম মাহবুব হাসান।

যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে দলগত প্রচেষ্টা বা টিমওয়ার্কের বিকল্প নেই। কিন্তু অনেক সময় কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের স্থবিরতা বা অনীহা দেখা দেয়, যা মূলত ‘টিম ডিসফাংশন’ বা প্রাতিষ্ঠানিক অকার্যকরতার লক্ষণ। গবেষক প্যাট্রিক লেনসিওনির মতে, একটি প্রতিষ্ঠান কেন লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয় তার পেছনে মূলত পাঁচটি মনস্তাত্ত্বিক কারণ কাজ করে।

১. আস্থার অভাব একটি টিমের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস। যখন কর্মীরা একে অপরের সামনে নিজের দুর্বলতা বা ভুল স্বীকার করতে ভয় পায়, তখনই আস্থার অভাব প্রকট হয়। এর ফলে কর্মীরা সাহায্যের পরিবর্তে ভুল লুকাতে চেষ্টা করে এবং টিমের মধ্যে নেতিবাচক রাজনীতি শুরু হয়।

২. সংঘাতের ভয় গঠনমূলক বিতর্কের অভাব একটি টিমের জন্য ক্ষতিকর। কর্মীরা যখন কৃত্রিমভাবে শান্ত থাকে এবং মিটিংয়ে দ্বিমত পোষণ না করে আড়ালে সমালোচনা করে, তখন সমস্যার প্রকৃত সমাধান বের হয় না। এই উদাসীনতা কর্মীদের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

৩. অঙ্গীকারের ঘাটতি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যখন কর্মীদের মতামত নেওয়া হয় না, তখন তারা গৃহীত সিদ্ধান্তের সাথে একাত্ম হতে পারে না। ফলে কাজে স্বচ্ছতা থাকে না এবং সংকটের সময় কর্মীরা দায় এড়িয়ে চলে। গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্তের অভাবে কাজের প্রতি একাগ্রতা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যেতে পারে।

৪. জবাবদিহি এড়িয়ে চলা আস্থার অভাব থাকলে কেউ কাউকে ভুল ধরিয়ে দিতে চায় না পাছে সম্পর্ক খারাপ হয়। এর ফলে কর্মীরা কাজের মান বজায় রাখার চেয়ে সহকর্মীদের সাথে মেকি সুসম্পর্ক রাখাকে বেশি গুরুত্ব দেয়, যা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে।

৫. ফলাফলের প্রতি অমনোযোগ যখন কর্মীরা টিমের সাফল্যের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার বা ইগোকে বড় করে দেখে, তখন প্রতিষ্ঠান ডুবতে শুরু করে। এমন মানসিকতায় কর্মীরা কেবল বেতন এবং পদোন্নতি নিয়ে ভাবেন, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে নয়।

উত্তরণের পথ ও নেতৃত্বের ভূমিকা টিমের ফাটল রোধে নেতৃত্বকে সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। ম্যানেজারকে প্রথমে নিজের ভুল স্বীকারের সততা দেখাতে হবে, যা কর্মীদের মধ্যে সাহস জোগাবে। এছাড়া প্রতিটি মিটিং শেষে দায়িত্ব ও ডেডলাইন স্পষ্ট করা এবং দলগত লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইনসেনটিভ দেওয়া উচিত।

পরিশেষে, কর্মীদের অনীহা কেবল একটি উপসর্গ। যখন একজন কর্মী অনুভব করেন যে তিনি একটি নিরাপদ পরিবেশে আছেন এবং তার মতামতের মূল্য আছে, তখনই তিনি নিজের সেরাটা উজাড় করে দেন। আধুনিক যুগে সেই প্রতিষ্ঠানই টিকে থাকবে যারা কর্মীদের কেবল যন্ত্র মনে না করে একটি আত্মিক টিমে রূপান্তরিত করবে।

Tags: leadership teamwork corporate-culture management-strategy patrick-lencioni institutional-growth bangladesh-corporate-sector