• আন্তর্জাতিক
  • মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের লেলিহান শিখা: ৪ বছরের রেকর্ড ভেঙে ১০০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম, বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনিসংকেত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের লেলিহান শিখা: ৪ বছরের রেকর্ড ভেঙে ১০০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম, বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনিসংকেত

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের লেলিহান শিখা: ৪ বছরের রেকর্ড ভেঙে ১০০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম, বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনিসংকেত

হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনায় বিপাকে বিশ্ববাজার; জোগান সংকটে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই-এর দামে নজিরবিহীন উল্লম্ফন।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘাতের প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গে চার বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে আকাশচুম্বী হয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude) এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—আন্তর্জাতিক বাজারের এই দুই শীর্ষস্থানীয় তেলের ব্র্যান্ডের মূল্যই এখন ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির 'Supply Chain' বা জোগান ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বড় ধরণের অশনিসংকেত।

এক দিনেই ২০ শতাংশ দরবৃদ্ধি: অস্থির বিশ্ববাজার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ১০৮.৬৮ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআই-এর দাম পৌঁছেছে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে। পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ১৮ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই-এর ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ২০ শতাংশ।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তেলের বাজার এমন অস্থিরতা দেখেছিল। তখন তেলের দাম ১০০ ডলার স্পর্শ করেছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী: কেন বিপন্ন ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’? আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্তকারী ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন যত অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) জাহাজে পরিবাহিত হয়, তার প্রায় ২০ শতাংশই এই সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও 'Market Analyst'-দের মতে, ইরান এই রুটে তেলবাহী জাহাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদক দেশগুলো এই পথ ছাড়া পশ্চিমা বিশ্বে সহজে তেল রপ্তানি করতে পারে না। ফলে হরমুজ প্রণালীতে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে তেলের 'Market Value' বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আইআরজিসি-র তৎপরতা ও সমুদ্রপথে হামলা গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এই রুটে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। ব্রিটিশ সংস্থা ‘ইউকে মেরিটাইম অপারেশনস’ (UKMTO)-এর তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে অন্তত ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কে অনেক জাহাজ কোম্পানি তাদের রুট পরিবর্তন করছে, যা পরিবহন খরচ বা 'Freight Cost' বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কেবল পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর ফলে কৃষি, শিল্প উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ খাতের খরচও পাল্লা দিয়ে বাড়বে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) চাপ তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরণের অর্থনৈতিক মন্দা বা 'Economic Recession'-এর কবলে পড়তে পারে বিশ্ব।

Tags: middle east brent crude energy crisis supply chain global market iran israel irgc news oil price wti oil strait hormuz inflation alert.