ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তার পুত্র মোজতবা খামেনিকে বেছে নিয়েছে দেশটির নীতিনির্ধারক পরিষদ।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ও পরিষদ
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস' বা বিশেষজ্ঞ পরিষদের ৮৮ জন সদস্যের সম্মতিতে মোজতবা খামেনিকে এই পদে আসীন করা হয়েছে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর এই পরিষদ দ্বিতীয়বারের মতো নতুন কোনো সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করল। এর আগে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলি খামেনিকে একইভাবে দ্রুততার সঙ্গে নির্বাচিত করা হয়েছিল।
মোজতবা খামেনির পরিচয় ও বিতর্ক
মোজতবা খামেনি কোনো প্রথাগত উচ্চপদস্থ ধর্মীয় নেতা না হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তার প্রভাব দীর্ঘদিনের। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ ছিল, মোজতবা তার বাবার আঞ্চলিক লক্ষ্য পূরণ এবং ইরানের অভ্যন্তরে দমন-পীড়নে আইআরজিসি-কুদস ফোর্স ও বাসিজ বাহিনীর সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।
আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আকস্মিক মৃত্যুর পর এই নেতৃত্ব পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের নতুন নেতার অবস্থান এবং প্রতিরক্ষা নীতি কেমন হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে।