• আন্তর্জাতিক
  • তেহরানকে রিয়াদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি: ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখলে ইরানের কপালে জুটবে ‘সর্বোচ্চ পরাজয়’

তেহরানকে রিয়াদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি: ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখলে ইরানের কপালে জুটবে ‘সর্বোচ্চ পরাজয়’

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
তেহরানকে রিয়াদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি: ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখলে ইরানের কপালে জুটবে ‘সর্বোচ্চ পরাজয়’

শায়েবাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার পর কঠোর অবস্থানে সৌদি আরব; প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবের অমিল নিয়ে রিয়াদের তীব্র ক্ষোভ।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আরব অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে ইরান যদি নির্বিচারে ‘Drone’ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখে, তবে চলমান সংঘাতে তেহরানের ‘সর্বোচ্চ পরাজয়’ নিশ্চিত—এমন কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে সৌদি আরব। গত শনিবার সৌদির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শায়েবাহ তেলক্ষেত্রে (Shaybah Oil Field) ইরানি ড্রোন আঘাত হানার পর রোববার রিয়াদের পক্ষ থেকে এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হলো।

প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবের ফারাক: রিয়াদের তোপ সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক কড়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার এবং হামলা বন্ধের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা কেবল কাগুজে বুলি হিসেবেই প্রমাণিত হয়েছে। রিয়াদের দাবি, তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি ও ময়দানের কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোনো ‘Alignment’ নেই।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “ইরান কোনো বাস্তব ভিত্তি ছাড়াই সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে আরব রাষ্ট্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলছি যে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের শান্তিকামী বার্তার কোনো প্রতিফলন বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের এই আগ্রাসন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”

‘সর্বোচ্চ পরাজয়’ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বিবৃতিতে ইরানকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া সতর্কবার্তায় রিয়াদ বলেছে, “ইরান যদি এই হঠকারী নীতি অব্যাহত রাখে, তবে চলমান যুদ্ধে তাদের ‘Maximum Defeat’ বা সর্বোচ্চ পরাজয় বরণ করতে হবে। একই সঙ্গে এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ড রিয়াদ ও তেহরানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের (Diplomatic Relations) ওপর গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ত্রিদেশীয় সংঘাতের পর এই প্রথম সৌদি আরব সরাসরি তেহরানকে এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিল। শায়েবাহ অয়েল ফিল্ডে হামলার ঘটনাটি কেবল সৌদির জ্বালানি অবকাঠামো নয়, বরং বৈশ্বিক ‘Energy Security’-এর ওপরও এক বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরবের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ‘Strategic’ ধৈর্য। তবে সরাসরি তেলক্ষেত্রে আঘাত আসায় এবং আরব অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় রিয়াদ এখন কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে। এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের ‘Geopolitics’-এ এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে সৌদি আরব তার সুরক্ষা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধির পথে হাঁটছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, ইরান যদি অবিলম্বে এই আগ্রাসন বন্ধ না করে, তবে সৌদি আরব আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

Tags: saudi arabia iran conflict