ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্বাচন এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৯ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার প্রশাসনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অবস্থান তুলে ধরেন।
নেতৃত্ব নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, তা নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ভূমিকা থাকবে। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তবে তিনি একটি নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, যদি আগের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত কেউ নিজেকে যোগ্য ও ভালো নেতা হিসেবে প্রমাণ করতে পারেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাকেও সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ইউরেনিয়াম জব্দে বিশেষ অভিযান ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, ইরান চাইলে এখন ১০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে অস্ত্র তৈরির উপযোগী পারমাণবিক উপাদান প্রস্তুত করতে পারে। তাদের ইউরেনিয়ামের বিশাল ভাণ্ডার বর্তমানে নাতানজ, ফরদো এবং ইসফাহান প্ল্যান্টে সংরক্ষিত রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প জানান, প্রয়োজন হলে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী পাঠিয়ে ওই ইউরেনিয়াম জব্দ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে তার প্রশাসন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখতে সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে।
যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি ও সময়সীমা ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কত দিন স্থায়ী হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তবে তিনি দাবি করেছেন যে, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে তাদের নির্ধারিত পরিকল্পনার চেয়েও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এর আগে তিনি গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এই সংঘাত অন্তত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর এমন দাবি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।