উৎসবের আমেজে জনমানুষের মেলবন্ধন পবিত্র ঈদুল ফিতরের মহিমান্বিত ক্ষণে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে ঈদের নামাজ আদায় শেষে তারা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, কোলাকুলি এবং কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেন। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে তাদের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরেও এক মানবিক সংহতির বার্তা দিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নূরুল ইসলাম বুলবুলের ঈদ আনন্দ জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল (সংসদ সদস্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩) নিজ নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেন। তিনি শহরের নামোশংকরবাটী হেফজুল মাদরাসা মাঠে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে তিনি স্থানীয় প্রবীণ ও শিশুদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। শিশুদের সঙ্গে তার মেতে ওঠার মুহূর্তগুলো স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে। এ সময় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পটুয়াখালীতে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের গণসংযোগ দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (সংসদ সদস্য, পটুয়াখালী-২) নিজ এলাকা বাউফলে ঈদের নামাজ আদায় করেন। বাউফল পাবলিক মাঠে নামাজ শেষে তিনি সহস্রাধিক মুসল্লির সঙ্গে কোলাকুলি করেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। ড. মাসুদ এ সময় এলাকার শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
বায়তুল মোকাররমে মিষ্টান্ন উৎসব রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের নামাজ আদায় করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। নামাজ শেষে পল্টন থানা জামায়াতের আয়োজনে এক ব্যতিক্রমী ‘মিষ্টান্ন উৎসব’-এ অংশ নেন তিনি। সেখানে আগত সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পল্টন, মতিঝিল ও শাহবাগ এলাকার স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, “ঈদ মানেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, আর সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”
শহীদ ও আহত পরিবারের সঙ্গে বিশেষ সংহতি জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে ঈদের এই দিনে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জামায়াত নেতারা। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে নামাজ শেষে জুলাই আন্দোলনের শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের পিতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অন্যদিকে, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মুরাদপুর ঈদগাহ মাঠে নামাজ শেষে কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহতদের খোঁজখবর নেন। তাদের এই উদ্যোগটি উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
প্রান্তিক পর্যায়ে সরব উপস্থিতি ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ এলাকায় মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন। এছাড়াও ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন মাতুয়াইল কবরস্থান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ শেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। জামায়াত নেতাদের এই ব্যাপকভিত্তিক Community Outreach কার্যক্রম মূলত তৃণমূল পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক সংহতি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্কেরই প্রতিফলন ঘটিয়েছে।