যান্ত্রিকতার ক্লান্তি মুছে শেকড়ের টানে উৎসব ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরী ঢাকায় যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় হাঁপিয়ে ওঠা নগরবাসীর জন্য উৎসবের নতুন বার্তা নিয়ে এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য ‘ঈদ উৎসব’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি ঢাকার ৫শ বছরের পুরনো ঐতিহ্যকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার এই আহ্বানে শামিল হতে সর্বস্তরের মানুষকে আমন্ত্রণ জানান।
তিন দিনের মহোৎসব: যা থাকছে আয়োজনে নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে উৎসবের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। নাগরিক এই উদ্যোগে উৎসবের শুরু হবে ‘চাঁদরাত’ থেকে। ১. চাঁদরাতে মেহেদী উৎসব: ঈদের আগের রাতে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে তরুণ-তরুণী ও শিশুদের জন্য থাকবে মেহেদী উৎসবের আয়োজন। ২. ঈদের দিন বর্ণাঢ্য ঈদ মিছিল: ঈদের নামাজের পর ঢাকা মহানগরীর রাজপথে বের করা হবে একটি সুসজ্জিত ও বর্ণাঢ্য ‘ঈদ মিছিল’ (Eid Procession)। এটি মূলত ঢাকার প্রাচীন ঐতিহ্যের এক আধুনিক সংস্করণ হিসেবে প্রদর্শিত হবে। ৩. ঘুড়ি উৎসব: উৎসবের শেষ দিনে ঢাকার আকাশে রঙের মেলা বসাতে আয়োজিত হবে ঐতিহ্যবাহী ‘ঘুড়ি উৎসব’ (Kite Festival)। পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যকে পুরো নগরীতে ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
৫শ বছরের ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ নাহিদ ইসলাম তার আহ্বানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকার প্রাচীন ঐতিহ্যের ওপর। তিনি বলেন, “আমাদের এই জনপদের প্রায় পাঁচশো বছরের এক সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ইতিহাস রয়েছে। নগরায়ন ও আধুনিকতার ভিড়ে আমরা সেই শেকড়কে ভুলতে বসেছি। এই ঈদ উৎসব কেবল নিছক আনন্দ আয়োজন নয়, বরং আমাদের হারানো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার একটি নাগরিক প্রচেষ্টা (Citizen Initiative)।” তিনি মনে করেন, এ ধরনের উৎসবের মাধ্যমে ঢাকাবাসীর মধ্যে হারানো ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক বন্ধন (Social Bond) পুনরায় সুদৃঢ় হবে।
ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের ডাক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই আহ্বায়ক বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে উৎসবকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “সব ভেদাভেদ ভুলে এই আনন্দোৎসবে শামিল হওয়ার জন্য আমি নগরবাসীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।” যান্ত্রিক জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষ যেন একে অপরের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে, সেটাই এই উদ্যোগের মূল ফিলোসফি (Philosophy)।
নাগরিক সম্পৃক্ততা ও প্রত্যাশা গত বছরও এ ধরনের উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এবারও কমিউনিটি এঙ্গেজমেন্ট (Community Engagement) বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় এই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই তিন দিনের উৎসবে ঢাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেবেন, যা রাজধানীকে একটি প্রাণবন্ত ও ঐতিহ্যবাহী মেগাসিটি হিসেবে বিশ্বের দরবারে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেবে।