পবিত্র ঈদুল ফিতরের মহিমান্বিত ক্ষণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কূটনীতিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে মিলিত হলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও আন্তরিকতার মেলবন্ধন দেখা যায়।
কূটনৈতিক আড্ডায় বৈশ্বিক উপস্থিতিও
উৎসবের এই দিনে বিরোধীদলীয় নেতার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন বিশ্বের ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা। অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ডা. শফিকুর রহমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA), যুক্তরাজ্য (UK), চীন, জাপান, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই ‘Diplomatic Engagement’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত আন্তরিক। কেবল পশ্চিমা বিশ্বই নয়, তুরস্ক, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর, মায়ানমার ও থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও এই সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের কূটনীতিকদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়।
মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সরব উপস্থিতি
মুসলিম উম্মাহর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে সৌদি আরব, পাকিস্তান, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিশর, আলজেরিয়া, ব্রুনেই ও কসোভোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ কুশল বিনিময় করেন ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ করে প্যালেস্টাইনের (Palestine) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলাপকালে আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়।
রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরাও এই ঈদ আড্ডায় শামিল হন। ইউএনডিপি (UNDP), ইউনেস্কো (UNESCO) ও ইউনিসেফ (UNICEF)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার (International Organizations) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সৌজন্য আলাপে অংশ নেন।
সৌহার্দ্য ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের বার্তা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদলীয় নেতার এই ‘Eid Diplomacy’ বা ঈদ কূটনীতি বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক সম্পর্কের (Multilateral Relations) ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ডা. শফিকুর রহমান অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়েও সংক্ষিপ্ত আলাপ করেন।
ঈদের ধর্মীয় গণ্ডি পেরিয়ে এই আয়োজনটি শেষ পর্যন্ত এক বৈশ্বিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। আমন্ত্রিত অতিথিরাও বিরোধীদলীয় নেতার আতিথেয়তায় মুগ্ধতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের জনগণকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।