• রাজনীতি
  • জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; ঢাকার বাইরে তৃণমূলের সঙ্গে থাকছেন শীর্ষ নেতারা

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; ঢাকার বাইরে তৃণমূলের সঙ্গে থাকছেন শীর্ষ নেতারা

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; ঢাকার বাইরে তৃণমূলের সঙ্গে থাকছেন শীর্ষ নেতারা

সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ শেষে ‘যমুনা’য় শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী; তৃণমূলের সঙ্গে উৎসব উদ্‌যাপনে নিজ নিজ এলাকায় যাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় হাই-কমান্ড।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের মহিমায় উদ্ভাসিত হতে যাচ্ছে গোটা দেশ। এবারের ঈদ আয়োজনে রাষ্ট্র ও রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে এক নতুন সমীকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারী হিসেবে তার এই অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী কর্মসূচি ঘিরে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে কঠোর ‘Security Protocol’ ও উৎসবের আমেজ।

জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত ও রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (DSCC) সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জামাতে সাধারণ মুসল্লি ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করবেন। প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়টি মাথায় রেখে জাতীয় ঈদগাহ প্রাঙ্গণে বিশেষ সাজসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

যমুনায় কূটনৈতিক তৎপরতা ও ঈদ শুভেচ্ছা নামাজ আদায়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সকাল ১০টা থেকে ‘যমুনা’য় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শুরু হবে।

এই আয়োজনে কেবল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীই নন, বরং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের ‘Diplomats’ (কূটনীতিক), শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং সমাজের নানা স্তরের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকবেন। এটি কেবল একটি শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর ‘Statesmanship’ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশেরও একটি বড় মঞ্চ হতে যাচ্ছে।

তৃণমূলে শীর্ষ নেতাদের ‘Constituency’ সফর প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে অবস্থান করলেও বিএনপির নীতিনির্ধারক ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় একটি অংশ তৃণমূলের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করতে ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য তাদের নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করবেন।

১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বিএনপির মহাসচিব ঈদের দিন ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। ২. গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: স্থায়ী কমিটির এই প্রভাবশালী নেতা তার নির্বাচনী এলাকা কেরানীগঞ্জে স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদ করবেন। ৩. ড. আব্দুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: মঈন খান নরসিংদীর পলাশে এবং আমীর খসরু চট্টগ্রামে নিজ এলাকায় থাকছেন। ৪. সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু: সালাহউদ্দিন আহমেদ পর্যটন নগরী কক্সবাজারে এবং টুকু সিরাজগঞ্জে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাবেন।

শ্রদ্ধা ও স্মরণে জিয়ারত উৎসবের সকালে বিএনপির শীর্ষ নেতারা কেবল আনন্দেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের দিন সকালে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার এবং চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল জিয়ারত করবেন দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। সেখানে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হবে।

বিদেশে চিকিৎসাধীন নেতাদের অনুপস্থিতি দলের ‘Standing Committee’-এর গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান এবারের ঈদে দেশে থাকতে পারছেন না। তারা দুজনেই বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। তাদের অনুপস্থিতি দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে কিছুটা বিষণ্ণতা তৈরি করলেও তাদের সুস্থতার জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের অবস্থান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং মো. শাহজাহান ঢাকায় ঈদ করবেন। অন্যদিকে, বরকতউল্লা বুলু নোয়াখালীতে, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশালে এবং রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোরে অবস্থান করে স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতীয় ঈদগাহে উপস্থিতি এবং শীর্ষ নেতাদের দেশজুড়ে এই ‘Engagement’ দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tags: tarique rahman bangladesh politics mirza fakhrul bnp leaders eid ul fitr national eidgah state protocol jamuna palace