এনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মাথায় তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো (Election Promises) বাস্তবায়ন ও দৃশ্যমান করতে শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (LGRD) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বৈশ্বিক সংকট ও সরকারের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’ সরকারের এক মাসের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বিএনপি যখনই জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসে, তখনই কোনো না কোনো বৈশ্বিক সংকটের সম্মুখীন হতে হয়। এবারও দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের মতো বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক সংকট (Geopolitical Crisis) সামনে এসেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও সরকারের যোগ্য নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের (Fuel Oil) কোনো ঘাটতি তৈরি হয়নি। এমনকি এই কঠিন সময়েও জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখাকে তিনি সরকারের প্রাথমিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
জুলাই সনদ ও প্রশাসনিক সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে পরিচিত ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে কথা বলেন এলজিআরডি মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই সনদে যেসব সংস্কার ও জনহিতকর বিষয়ে বিএনপি একমত হয়েছিল, সরকার বর্তমানে সেসব ‘Policy Implementation’ বা নীতি বাস্তবায়নে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।
চলতি বছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আইনি কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, চলতি বছরের মধ্যেই যত দ্রুত সম্ভব এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।” এর মাধ্যমে জননির্ধারিত প্রতিনিধিরা তৃণমূলের উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ: অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরলেও আগামীর কঠিন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “এক মাসে আমরা প্রায় প্রতিটি সেক্টরে আশাব্যঞ্জক সাফল্য দেখছি। তবে আমাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘Economic Recovery’ বা ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরায় সুস্থ ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।” মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার (Top Priority) হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।
সামগ্রিক মূল্যায়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকার কেবল কথার ফুলঝুরি নয়, বরং বাস্তবমুখী কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে জনকল্যাণমূলক আরও বেশ কিছু মেগা প্রজেক্ট ও সংস্কার কর্মসূচি দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।