মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে চার মুসলিম প্রধান দেশ—তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তান একটি অভিন্ন নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম গঠনে সম্মত হয়েছে। রিয়াদে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এই জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
নতুন নিরাপত্তা জোটের প্রেক্ষাপট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তুরস্ক গত বছর থেকেই একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট গঠনের পরিকল্পনা করে আসছিল। প্রাথমিকভাবে এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান ও সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হলেও পরবর্তীতে মিসরকেও এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় যুক্ত করা হয়। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই চার দেশের ঐক্য মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এটি ন্যাটোর মতো সামরিক চুক্তি নয় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই জোটের প্রকৃতি স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, এটি ন্যাটোর মতো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে না। বরং এটি হবে একটি শক্তিশালী 'নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম', যার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাত এবং সামরিক সহযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারবে। আঞ্চলিক প্রভাবসম্পন্ন এই দেশগুলো কীভাবে নিজেদের শক্তি একীভূত করে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করতে পারে, সেটিই এই জোটের মূল লক্ষ্য।
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান এবং এর জবাবে তেহরানের পাল্টা হামলার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। ওই অঞ্চলে নতুন কোনো সংঘাত এড়াতে এবং সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় যৌথভাবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে দেশগুলো মতবিনিময় করেছে।
ভবিষ্যৎ সমীকরণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই চার দেশের ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে বৈশ্বিক রাজনীতির নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে এই দেশগুলো একে অপরকে বড় ধরনের সহায়তা দিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।