• আন্তর্জাতিক
  • বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ লেবানন: কাসমিয়া সেতু গুঁড়িয়ে দিল ইসরাইলি বাহিনী, দোরগোড়ায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়

বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ লেবানন: কাসমিয়া সেতু গুঁড়িয়ে দিল ইসরাইলি বাহিনী, দোরগোড়ায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ লেবানন: কাসমিয়া সেতু গুঁড়িয়ে দিল ইসরাইলি বাহিনী, দোরগোড়ায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়

লিতানি নদীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে ধ্বংসযজ্ঞ; অবরুদ্ধ হাজারো বেসামরিক নাগরিকের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা।

যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইসরাইলি বিমান হামলা। এবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘কাসমিয়া সেতু’ (Kasmieh Bridge) গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। লিতানি নদীর ওপর স্থাপিত এই গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইনটি ধ্বংস হওয়ার ফলে দক্ষিণ লেবাননে চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রম (Humanitarian Aid Operations) এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

কৌশলগত সংযোগ বিচ্ছিন্ন: বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ লেবানন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রোববার (২২ মার্চ) চালানো এই সুপরিকল্পিত হামলার ফলে লেবাননের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কাসমিয়া সেতুটি কেবল একটি অবকাঠামো ছিল না, বরং এটি ছিল দক্ষিণ লিতানি অঞ্চলে জরুরি রসদ ও খাদ্য সরবরাহের প্রধান করিডোর। এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে লেবাননের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা (Logistics) কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ ও ‘বাফার জোন’ পরিকল্পনা এই ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যে রয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ-এর সাম্প্রতিক একটি বিতর্কিত নির্দেশ। তিনি লিতানি নদীর ওপর অবস্থিত সব ধরনের পারাপারের পথ এবং সীমান্ত সংলগ্ন লেবাননের অভ্যন্তরে প্রতিটি ঘরবাড়ি ধ্বংস করার নির্দেশ দেন।

লেবাননের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "এটি দক্ষিণ লিতানি অঞ্চলকে লেবাননের মূল ভূখণ্ড থেকে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার একটি অপচেষ্টা।" তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, ইসরাইল সীমান্তজুড়ে একটি তথাকথিত ‘বাফার জোন’ (Buffer Zone) তৈরি করতে চাইছে, যা মূলত লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে দখলদারিত্ব সম্প্রসারণের একটি সন্দেহজনক চক্রান্ত।

মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে হাজারো বেসামরিক নাগরিক সেতুটি ধ্বংস হওয়ার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। বর্তমানে লিতানি নদীর দক্ষিণ অংশে কয়েক হাজার বেসামরিক নাগরিক আটকা পড়ে আছেন। এদের একটি বিশাল অংশ যুদ্ধ থেকে বাঁচতে বিভিন্ন স্কুল, হাসপাতাল এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে (Shelters) আশ্রয় নিয়েছেন।

সেতু ও প্রধান সড়কগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গত এসব মানুষের কাছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, খাদ্য এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানো এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। লেবানন সরকারের ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আকাশপথ বা বিকল্প দুর্গম পথ ছাড়া সেখানে পৌঁছানোর আর কোনো পথ খোলা নেই, যা ত্রাণ কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটে ফেলবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ উদ্বেগ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো (Critical Infrastructure) লক্ষ্য করে ইসরাইলের এই আগ্রাসন লেবাননের রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ভেঙে ফেলার একটি অংশ। লিতানি নদীর অববাহিকায় এই ধ্বংসলীলা কেবল হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা কমানোর জন্য নয়, বরং সাধারণ জনগণকে চরম দুর্ভোগে ফেলে লেবানন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননে যদি দ্রুত বিকল্প কোনো সরবরাহ পথ তৈরি করা না যায়, তবে সেখানে বড় ধরনের খাদ্য সংকট ও চিকিৎসাসেবার অভাবে মানবিক বিপর্যয় (Humanitarian Catastrophe) ঘটার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

Tags: middle east humanitarian crisis international news buffer zone infrastructure damage israel strike lebanon war kasmieh bridge litani river south lebanon