যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গঠনমূলক আলোচনা’ সংক্রান্ত দাবিকে কঠোরভাবে নাকচ করে দিয়েছে ইরান। সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এই বক্তব্যকে বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে তেহরান।
ট্রাম্পের কৌশলের নেপথ্যে ইরান যা বলছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম কমানোর একটি কৌশল। এছাড়া সামরিক প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় নিতেই যুক্তরাষ্ট্র এমন ‘আলোচনার’ কথা বলছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ কোনো আলোচনা হয়নি।
উত্তেজনা প্রশমনে আঞ্চলিক মধ্যস্থতা আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতায় উত্তেজনা প্রশমনের কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইরান তার অবস্থানে অনড়। তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের দায় তাদের নয় এবং যুদ্ধের সূচনাও তারা করেনি। রাষ্ট্র-সমর্থিত সংবাদমাধ্যম ফার্স ও তাসনিমের বরাতে ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেই যুক্তরাষ্ট্র আপাতত পিছু হটেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় প্রভাব ইরানের অবকাঠামোতে হামলা স্থগিতের খবরের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলে প্রায় ১৭ ডলার বা ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম প্রায় ১৩.৫ শতাংশ কমে ৮৫.২৮ ডলারে অবস্থান করছে।
হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানি অনিশ্চয়তা এর আগে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ইরানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা কম। ফলে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা নিয়ে এখনো শঙ্কা কাটেনি।