যশোর-মাগুরা মহাসড়কের গাইদঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মধ্যরাতে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে একই পরিবারের তিনজনের। এতে আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
নিহত ও আহতদের পরিচয় নিহতরা হলেন—যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ফাতেহাবাদ গ্রামের মজিদ সরদার (৭০), তার ছেলে মাহমুদ হাসান জাকারিয়া জনি (৪৩) এবং জনির চার বছর বয়সী শিশু কন্যা সেহেরিশ। দুর্ঘটনায় জনির স্ত্রী, ছোট ছেলে এবং মা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে পরিবারের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা থেকে একটি প্রাইভেটকারে চড়ে মণিরামপুরের দিকে ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে গাড়িটি গাইদঘাট এলাকায় পৌঁছালে চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। দ্রুতগতির প্রাইভেটকারটি রাস্তার পাশে থাকা একটি বিশাল বটগাছে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মজিদ সরদার ও তার ছেলে জনির মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশু সেহেরিশও মারা যায়।
উদ্ধার অভিযান ও পুলিশের বক্তব্য দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে। পুলিশ ধারণা করছে, গভীর রাতে অতিরিক্ত গতির কারণে অথবা চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
বারবাজার হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।