দেশের আর্থিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী সোমবার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকে ২০ বছর মেয়াদি (অবশিষ্ট ১৯.৪১ বছর) ‘বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড’ (Treasury Bond) বিক্রির এক মেগা নিলাম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১ হাজার কোটি টাকা অভিহিত বা লিখিত মূল্যের এই বন্ডটি মূলত ‘রি-ইস্যু’ (Re-issue) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের যোগাযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ (ডিজিপিপি) এক অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিলামের পূর্ণাঙ্গ সূচি ও নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
বন্ডের বৈশিষ্ট্য ও কুপন রেট কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এবারের নিলামটি হবে প্রাইসভিত্তিক (Price-based Auction)। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা বন্ডের দামের ওপর ভিত্তি করে বিড করতে পারবেন। এই বন্ডটির কুপন রেট (Coupon Rate) নির্ধারণ করা হয়েছে ১০.৩০ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট এই বন্ডটি প্রথমবারের মতো ইস্যু করা হয়েছিল যার ‘আইএসআইএন’ (ISIN) নম্বর বিডি ০৯৪৫০৮১২০৮। দীর্ঘমেয়াদি এই বিনিয়োগের মেয়াদ পূর্ণ হবে ২০৪৫ সালের ২৭ আগস্ট। নিরাপদ বিনিয়োগ এবং নিশ্চিত মুনাফার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এই ট্রেজারি বন্ডের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
অংশগ্রহণের নিয়ম ও প্রক্রিয়া নিলামের নিয়ম অনুযায়ী, সরাসরি বিড দাখিল করতে পারবেন শুধুমাত্র সরকারি সিকিউরিটিজের ‘প্রাইমারি ডিলার’ (Primary Dealer) হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্যও সুযোগ থাকছে। অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (Non-Banking Financial Institution) তাদের নিজস্ব পোর্টফোলিও বা তাদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের পক্ষ থেকে প্রাইমারি ডিলারের মাধ্যমে বিড সাবমিট করতে পারবে।
বিনিয়োগকারীদের অভিহিত মূল্যের প্রতি ১০০ টাকা মূল্যের বন্ড কেনার জন্য কাঙ্ক্ষিত মূল্য এবং বন্ডের পরিমাণ উল্লেখ করে নিলামে অংশ নিতে হবে।
ডিজিটাল লেনদেন ও সময়সীমা আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখে এই নিলাম প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত ‘এফএমআই’ (Financial Market Infrastructure) সিস্টেমের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক বিড দাখিল করতে হবে। তবে বিশেষ কোনো কারিগরি জটিলতা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে ‘ম্যানুয়াল বিডস ইন সিলড কভারস’ (Manual Bids in Sealed Covers) বা সিলগালা খামে দরপত্র জমা দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিনিয়োগের গুরুত্ব ও বাজার প্রভাব আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ১ হাজার কোটি টাকার এই ট্রেজারি বন্ড রি-ইস্যু করার মাধ্যমে সরকার বাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে। এটি একইসঙ্গে বাজারের তারল্য ব্যবস্থাপনা (Liquidity Management) এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ অ্যাসেট ক্লাস (Asset Class) হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে পেনশন ফান্ড, বিমা কোম্পানি এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়কারীরা এই বন্ডের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতির বিপরীতে একটি স্থিতিশীল রিটার্ন পাওয়ার প্রত্যাশা করতে পারেন।
ইতিমধ্যেই নিলামে অংশগ্রহণের বিস্তারিত গাইডলাইন দেশের সকল প্রাইমারি ডিলার ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।