• ব্যবসায়
  • আর্থিক খাতের সংস্কারে আইএমএফের সন্তোষ: ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ে কাটছে জটিলতা

আর্থিক খাতের সংস্কারে আইএমএফের সন্তোষ: ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ে কাটছে জটিলতা

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
আর্থিক খাতের সংস্কারে আইএমএফের সন্তোষ: ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ে কাটছে জটিলতা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক; আর্থিক সূচক ইতিবাচক থাকায় মিলছে সবুজ সংকেত, চাওয়া হয়েছে ভবিষ্যৎ সংস্কারের রোডম্যাপ।

দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় গৃহীত আর্থিক খাত সংস্কারের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (Foreign Exchange Reserve) ব্যবস্থাপনা এবং মুদ্রা বিনিময় হার (Currency Exchange Rate) নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো সংস্থাটির প্রশংসা কুড়িয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে আইএমএফের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে এই ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সংস্কারের মূল্যায়ন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেয়। বৈঠকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি এবং আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আইএমএফ প্রতিনিধিরা জানান, প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ ব্যাংক যে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা সঠিক পথেই রয়েছে।

ভবিষ্যৎ রোডম্যাপের প্রত্যাশা বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. শাহরিয়ার সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন। তিনি জানান, আইএমএফ বাংলাদেশের আর্থিক খাতের ধারাবাহিক উন্নয়নে একটি সুনির্দিষ্ট ‘রোডম্যাপ’ (Roadmap) প্রস্তাবনা চেয়েছে। এই রোডম্যাপের মাধ্যমে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে চায় সংস্থাটি। তবে বর্তমানের আর্থিক সূচকগুলো (Financial Indicators) ইতিবাচক ধারায় থাকায় ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের ক্ষেত্রে কোনো বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা দেখছে না আইএমএফ।

ঋণ কর্মসূচি ও কিস্তির হালনাগাদ চিত্র উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জন্য আইএমএফের ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচি অনুমোদিত হয়, যা পরবর্তীতে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাড়িয়ে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। এই বিশাল অংকের ঋণের মধ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আরও প্রায় ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার ছাড় হওয়া বাকি রয়েছে।

ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের সময়সূচি ছিল গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। তবে দেশে নতুন সরকার গঠনের অপেক্ষায় এই প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। বুধবারের বৈঠকে আইএমএফের সন্তুষ্টি প্রকাশের পর এখন দ্রুততম সময়ে এই কিস্তি ছাড়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আইএমএফের এই ইতিবাচক মূল্যায়ন দেশের বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি আইএমএফের চাওয়া অনুযায়ী সময়োচিত রোডম্যাপ প্রদান করতে পারে, তবে দেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট কাটিয়ে ওঠা এবং রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো আরও সহজ হবে। সরকারের নতুন মেয়াদে আইএমএফের এই ‘কনফিডেন্স’ বা আস্থা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গতির সঞ্চার করবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Tags: foreign exchange bangladesh bank central bank economic stability financial reform imf bangladesh loan tranche currency reserve financial indicators roadmap progress