বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের মতে, মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় এক হাজার সৈন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হবে। এর ফলে ওই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি আরও বাড়বে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বলছে- তারা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই দলে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল ব্র্যান্ডন টেগটমায়ার এবং ডিভিশন স্টাফ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়াও রয়েছে ১ম ব্রিগেড কমব্যাট টিমের একটি ব্যাটালিয়ন, যা বর্তমানে ডিভিশনের ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স (আইআরএফ) হিসেবে কাজ করছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, ডিভিশন স্টাফ এবং ব্যাটালিয়নের প্রাথমিক অংশ এক সপ্তাহের মধ্যে মোতায়েন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে; ব্রিগেডের অন্যান্য অংশও পরবর্তীতে মোতায়েন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও পরিস্থিতির অগ্রগতির সাথে সাথে এই প্রত্যাশাগুলো পরিবর্তিত হতে পারে।
সূত্রটি জানিয়েছে, ব্রিগেডটি মধ্যপ্রাচ্যের ‘প্রস্তুত ইউনিট’ হিসেবে কাজ করবে। যেকোনও সময় প্রয়োজনে তাদের তলব করা হবে। ২০২০ সালে ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল।
আইআরএফ হলো এমন একটি ব্রিগেড, যা স্বল্প সময়ের নোটিশে স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুত থাকে এবং একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী হিসেবে কাজ করে, যা তলব করা হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোতায়েন হতে সক্ষম। সেনাবাহিনীর ব্রিগেডের বিভিন্ন দলের মধ্যে আইআরএফ-এর এই দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে বদল হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৬তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটি হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এতে সারাবিশ্বে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে। সূত্র: সিএনএন