ফুটবল মাঠের অতন্দ্র প্রহরী থেকে আজ তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নীতিনির্ধারক। বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এক অজানা গল্প শেয়ার করেছেন। ১৯৯২ সালের সেই সময়ে ১২ বছরের এক কিশোরের উপার্জিত ১৫০ টাকাই যে আজ তাকে এই উচ্চতায় নিয়ে আসবে, তা হয়তো তখন কেউ ভাবেনি।
গ্রামের টুর্নামেন্ট ও প্রথম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ আমিনুল হক জানান, তার প্রথম আয় ছিল ফুটবলারদের ভাষায় ‘খ্যাপ’ খেলে। ১৯৯২ সালে নিজ এলাকার একটি গ্রাম্য ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলে তার দল চ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনাল জেতার পর পুরস্কার হিসেবে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল মাত্র দেড়শ টাকা।
মায়ের হাতে প্রথম উপার্জিত টাকা জীবনের প্রথম উপার্জনের সেই দেড়শ টাকা পাওয়ার পর আমিনুল দেরি না করে তা নিজের মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, "টাকাটা পেয়ে আমি সোজা আম্মুর কাছে যাই। আম্মুর হাতে টাকাটা দেওয়ার পর তিনি যে আনন্দ পেয়েছিলেন, তা ছিল আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।"
ফুটবল থেকে রাজনীতি: এক সফল অভিযাত্রা নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে আমিনুলের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৯৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৪৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন তিনি। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তিনি ছিলেন প্রধান কারিগর। ঘরোয়া ফুটবলে মোহামেডান ও আবাহনীর মতো ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়ও ছিলেন তিনি।
২০১৩ সালে ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন আমিনুল হক। মাঠের নেতৃত্বের গুণাবলি কাজে লাগিয়ে তিনি রাজনীতিতেও নিজের অবস্থান শক্ত করেন। সর্বশেষ টেকনোক্রেট কোটায় বর্তমান সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান দেশের এই কৃতি সন্তান। মেজর হাফিজ এবং আরিফ খান জয়ের পর তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনি এই অনন্য সম্মান অর্জন করলেন।