এখন সরকার চায় ৯০ দিনের জ্বালানি চাহিদা মজুদ করতে। সে ব্যাপারে কাজ শুরু হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর ১২টায় যশোরে দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের এককালীন চেক বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন থেকে এভাবেই কমবেশি সঙ্কটের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে। নতুন এই পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের অভ্যস্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ৮০টি দেশ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার এখনও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা করছে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করলে বিদ্যুতের দাম বাড়বে, গণপরিবহণের খরচ বাড়বে, খাদ্যপণের দাম বাড়বে। জীবন কষ্টকর হবে। করোনা মহামারি আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অর্থনীতে এমনিতেই চাপ সহ্য করছে। জিনিসপত্রের দাম আরেকদফা বাড়লে এই চাপ অসহনীয় হয়ে যাবে। তাই চতুর্দিক থেকে চাপ থাকার পরও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা এই মুহূর্ত পর্যন্ত সরকারের নেই।
তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছে, কিন্তু চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর মার্চ মাসে গড়ে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা ছিল ১২ হাজার মেট্রিক টন। পেট্রোল-অকটেনের চাহিদা ছিল গড়ে ১২০০ থেকে ১৪০০ মেট্রিক টন। এবার ঈদুল ফিতরের আগে গড়ে প্রতিদিন ২৪ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন, অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় দ্বিগুন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। গত বছর মার্চ মাসেও ঈদুল ফিতর ছিল, মাহে রমজানও ছিল।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে তথ্য আছে, ঢাকা শহরের নামকরা পেট্রোল পাম্প ২০২৫ সালের মার্চ মাসে গড়ে ৫ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি করেছে। সেই পেট্রোল পাম্প এখন গড়ে ৯ থেকে ১০ হাজার লিটার অকটেল নিলেও দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অতিম বলেন, জনগণের দুর্ভোগ যাতে না বাড়ে সেটা নিশ্চিত করতে গিয়ে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জ্বালানির পেছনে গড়ে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে পাঁচটি দেশের জাহাজ চলাচলের ব্যাপারে ইরান অনুমতি দিয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের নামও আছে। এটা এমনিতে অর্জিত হয়নি। এটা বর্তমান সরকারের একটা কুটনৈতিক সাফল্য।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে পৃথিবীর যে প্রান্তে আমাদের পৌঁছানো দরকার, সে প্রান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি আমরা।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে ও যশোর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যশোরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
এসময় সেখানে অন্যদের মধ্যে যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ, সহকারি পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, এ দফায় যশোর জেলার ১৫৩ জন অসহায়, দুঃস্থ নারী-পুরুষকে মোট চার লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।