• আন্তর্জাতিক
  • 'ব্রেক' নিতে গিয়ে ১২ টন চকলেটই গায়েব! ট্রাকসহ ৪ লাখ কিটক্যাট চুরিতে তোলপাড়

'ব্রেক' নিতে গিয়ে ১২ টন চকলেটই গায়েব! ট্রাকসহ ৪ লাখ কিটক্যাট চুরিতে তোলপাড়

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
'ব্রেক' নিতে গিয়ে ১২ টন চকলেটই গায়েব! ট্রাকসহ ৪ লাখ কিটক্যাট চুরিতে তোলপাড়

ইতালি থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে উধাও বিশাল কনভয়; ইউরোপজুড়ে কিটক্যাট সংকটের আশঙ্কা, চোর ধরতে ব্যাচ কোডই ভরসা নেসলের।

বিশ্বখ্যাত সুইস ফুড জায়ান্ট (Food Giant) নেসলের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড কিটক্যাটের এক বিশাল চালান চুরির ঘটনায় আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন (Supply Chain) মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রায় ১২ টন ওজনের ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৯৩টি চকলেট বার নিয়ে একটি ট্রাক মাঝপথ থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) নেসলে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুঃসংবাদটি নিশ্চিত করেছে।

গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই 'নিখোঁজ' বিশাল কার্গো

নেসলে জানায়, তাদের নতুন সিরিজের চকলেটের এই বিশাল চালানটি ইতালির কেন্দ্রীয় অঞ্চলের একটি প্রোডাকশন সেন্টার (Production Center) থেকে পোল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। কিন্তু পথে ট্রাকটি তার নির্ধারিত রুট থেকে বিচ্যুত হয়ে 'নিখোঁজ' হয়ে যায়। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ট্রাক কিংবা পণ্য—কোনোটিরই হদিস পায়নি ইউরোপীয় পুলিশ। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ঠিক কোন পয়েন্ট থেকে ট্রাকটি উধাও হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি নেসলে।

স্লোগান যখন বাস্তব: নেসলের রসিকতা ও উদ্বেগ

কিটক্যাটের বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞাপনী স্লোগান ‘হ্যাভ এ ব্রেক, হ্যাভ এ কিটক্যাট’ (Have a break, have a KitKat)-কে টেনে নেসলের একজন মুখপাত্র কিছুটা রসিকতার সুরেই পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, "আমরা সবসময় মানুষকে কিটক্যাটের সাথে একটু বিরতি বা ‘ব্রেক’ নিতে উৎসাহিত করি। কিন্তু মনে হচ্ছে চোরেরা আমাদের এই বার্তাটি একটু বেশিই আক্ষরিক অর্থে (Literally) নিয়ে ফেলেছে। তারা ১২ টনের বেশি চকলেট নিয়ে সত্যিই এক লম্বা ব্রেক নিয়ে নিয়েছে।"

তবে এই রসিকতার আড়ালে বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। কোম্পানিটি সতর্ক করেছে যে, এই চুরির প্রভাবে ইউরোপের বেশ কিছু দেশের সুপারমার্কেটগুলোতে কিটক্যাটের সাময়িক ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

ট্র্যাকিং ও আনঅথরাইজড চ্যানেল নিয়ে সতর্কতা

চোরাই পণ্য শনাক্ত করতে নেসলে এখন প্রযুক্তির আশ্রয় নিচ্ছে। প্রতিটি চকলেট বারে একটি ইউনিক ‘ব্যাচ কোড’ (Batch Code) থাকে। নেসলে জানিয়েছে, এই কোড স্ক্যান করে চুরি হওয়া পণ্য খুব সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক করে দিয়ে তারা বলেছে, কোনো ‘অননুমোদিত বিক্রয় কেন্দ্রে’ (Unauthorized Sales Channel) এই চকলেটগুলো দেখা গেলে তা যেন দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

বাড়ছে অর্গানাইজড কার্গো ক্রাইম

এই চুরির ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যে বেড়ে চলা ‘কার্গো চুরি’র (Cargo Theft) এক ভয়াবহ চিত্র। নেসলে কর্তৃপক্ষ জানায়, অপরাধীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ এবং তারা অত্যন্ত ‘জটিল কৌশল’ (Sophisticated Tactics) ব্যবহার করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লজিস্টিক সেক্টরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর গলিয়ে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে, যা বড় কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নেসলে তাদের এই অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে এনেছে মূলত অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচেতন করতে এবং আন্তর্জাতিক লজিস্টিক রুটে নিরাপত্তা জোরদার করার তাগিদ দিতে।

চুরি হওয়া ১২ টন চকলেটের এই বিপুল পরিমাণ রাশি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌঁছায় এবং ইন্টারপোলের সহায়তায় নেসলে এই ‘মিষ্টি চোর’দের ধরতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Tags: supply chain international news kitkat theft nestle news cargo crime chocolate heist europe logistics batch code