• আন্তর্জাতিক
  • ইরানের সমর্থনে এবার সরাসরি যুদ্ধে হুতিরা: ইসরাইলে মিসাইল হামলা, বিশ্ব বাণিজ্যে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা

ইরানের সমর্থনে এবার সরাসরি যুদ্ধে হুতিরা: ইসরাইলে মিসাইল হামলা, বিশ্ব বাণিজ্যে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইরানের সমর্থনে এবার সরাসরি যুদ্ধে হুতিরা: ইসরাইলে মিসাইল হামলা, বিশ্ব বাণিজ্যে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা

চার সপ্তাহের নীরবতা ভেঙে রণক্ষেত্রে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী; সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণের জেরে টালমাটাল হতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতি।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংঘাত এবার এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিল। ইরানের সমর্থনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে ময়দানে নেমেছে ইয়েমেনের প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। টানা চার সপ্তাহের রণকৌশলগত নীরবতা কাটিয়ে তারা ইসরাইলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র (Missile) হামলা চালিয়েছে।

হামলার ধরণ ও লক্ষ্যবস্তু

গত ২৮ মার্চ পশ্চিম তীরের হেবরনের আকাশে ইয়েমেন থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের ঝলকানি দেখা যায়। হুতি বিদ্রোহীরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তাদের এবারের লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরাইলের অতি সংবেদনশীল এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের এই আক্রমণ সরাসরি ইরানের ড্রোন বা মিসাইল হামলার তুলনায় আপাতদৃষ্টিতে কম বিধ্বংসী মনে হলেও, এর নেপথ্যে থাকা গ্লোবাল ইমপ্যাক্ট বা বৈশ্বিক প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।

লোহিত সাগর ও বিশ্ব বাণিজ্যে অশনিসংকেত

হুতিদের এই রণতৎপরতা কেবল যুদ্ধের ময়দানেই সীমাবদ্ধ নেই। লোহিত সাগরের (Red Sea) প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বাব এল-মান্দেব (Bab el-Mandeb) প্রণালীতে হুতিরা যদি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও নৌযান লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে, তবে তা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার (Supply Chain) মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে পারে। এর আগেও এই রুটে হামলার ফলে বিশ্বের অনেক শীর্ষস্থানীয় জাহাজ কোম্পানি সুয়েজ খাল ব্যবহার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল। নতুন করে এই পথ অস্থিতিশীল হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) ঢেউ আছড়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালীর সংকট

ইরান ও হুতিদের এই যৌথ কৌশলের ফলে সংকটের মুখে পড়তে পারে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী। একদিকে লোহিত সাগরে হুতিদের দৌরাত্ম্য এবং অন্যদিকে পারস্য উপসাগরে ইরানের কঠোর অবস্থান বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল শোধনাগার ও সামরিক স্থাপনাগুলো আবারও হুতিদের ড্রোন বা মিসাইল থ্রেটের (Threat) আওতায় চলে আসার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাল্টা হামলা ও ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ভাগ্য

ইতিহাস বলছে, হুতিদের হামলার জবাবে অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সরাসরি আকাশপথে সামরিক অভিযান (Airstrikes) চালিয়েছে। এবারের উত্তেজনার পারদ যদি আরও চড়ে, তবে ইয়েমেনের মাটি আবারও একটি দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক যুদ্ধে (Regional War) পর্যবসিত হতে পারে। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর ইয়েমেন বর্তমানে যে আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা অর্জন করেছিল, এই নতুন সংঘাত তা ধূলিসাৎ করে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

হুতিরা শেষ পর্যন্ত কতটা আক্রমণাত্মক পথে হাঁটবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তাদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরিধিকে কেবল ইসরাইল-গাজা বা ইসরাইল-লেবানন সীমান্তের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Tags: middle east energy crisis geopolitical tension maritime security missile strike global trade israel iran red sea houthi attack bab el-mandeb