রংপুরে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩। দীর্ঘ আত্মগোপন শেষে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার টুনিরহাট এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন (৩৫) এবং তার স্ত্রী মোছা. শিউলি বেগম (৩০)।
পদ্মপুকুর থেকে পঞ্চগড়: ঘাতকদের পিছু ছাড়েনি র্যাব
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাতে র্যাব-১৩, সিপিএসসি রংপুর এবং সিপিসি-২, নীলফামারীর একটি জয়েন্ট অপারেশন (Joint Operation) দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাতকাজল দীঘি ইউনিয়নে হানা দেয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আসামিরা অত্যন্ত সুকৌশলে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে ছিল। তবে র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির কারণে শেষ রক্ষা হয়নি তাদের।
চাকরির নামে ১৭ লাখ টাকার ফাঁদ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড
মামলার এজাহার ও র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে। মো. জাকির হোসেন ভিকটিমকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন দফায় মোট ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এই বিশাল অংকের অর্থ দিয়ে জাকির হোসেন ব্যক্তিগত ফায়দা লুটলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাকরি দিতে ব্যর্থ হন।
পরবর্তীতে ভিকটিম বারবার তার কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাইলে জাকির ও তার স্ত্রী তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন। গত ১ মার্চ দুপুরে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ভিকটিমকে জাকিরের ভাড়া বাসায় ডেকে আনা হয়। সেখানেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে ঘাতক দম্পতি লাশ ফেলে রেখে দ্রুত গা ঢাকা দেয়।
আইনি পদক্ষেপ ও জননিরাপত্তা
ঘটনার পরদিন ২ মার্চ নিহতের ভাই বাদী হয়ে রংপুর কোতয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা (Murder Case) দায়ের করেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক জনরোষ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলার সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে র্যাব কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরবর্তী লিগ্যাল অ্যাকশন (Legal Action) বা আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। চাকরির প্রলোভনে এমন ভয়াবহ 'Job Fraud' এবং পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সমাজের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
র্যাবের এই সফল অভিযানের ফলে ভিকটিমের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ন্যায়বিচারের আশা সঞ্চারিত হয়েছে।