লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় স্বর্ণকাতান শাড়ি ও প্যান্টের পিস জব্দ করেছে। গত ২৯ মার্চ (রবিবার) সকালে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধীনস্থ কুড়িগ্রাম জেলার রামখানা ও অনন্তপুর বিওপি এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এসব চোরাই পণ্য জব্দ করে বিজিবি।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান , গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় শাড়ির একটি বড় চালান অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টায় রামখানা বিওপি এবং বেলা ১১টায় অনন্তপুর বিওপির বিশেষ টহল দল পশ্চিম রামখানা এবং নাগরাজ এলাকায় অবস্থান নেয়।
অভিযান চলাকালে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আসতে দেখে বিজিবির টহল দল তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং ধাওয়া করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ফেলে যাওয়া বস্তা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পোশাক জব্দ করা হয়।
১৫ বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৬৭টি ভারতীয় স্বর্ণকাতান শাড়ি, যার আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা; ৭৬টি সিল্ক শাড়ি, যার মূল্য ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ৩ থান প্যান্টের পিস, যার মূল্য ৩৬ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের মোট বাজারমূল্য ২৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় আপসহীন। চোরাচালানমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা সর্বদা সতর্ক ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিজিবি আরও জানায়, এই চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত পলাতক চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।