• আন্তর্জাতিক
  • কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে ইরানের ভয়াবহ হামলা: প্রাণ হারালেন ভারতীয় শ্রমিক

কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে ইরানের ভয়াবহ হামলা: প্রাণ হারালেন ভারতীয় শ্রমিক

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে ইরানের ভয়াবহ হামলা: প্রাণ হারালেন ভারতীয় শ্রমিক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে কুয়েত সিটিতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাল তেহরান; পরিষেবা ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি একজন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে আচ্ছন্ন। এই উত্তেজনার মধ্যেই কুয়েতের একটি প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও লবণাক্ত পানি শোধনাগারে (Desalination Plant) ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার (৩০ মার্চ) কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় চালানো এই হামলায় সেখানে কর্মরত একজন ভারতীয় শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তেহরানের এই সরাসরি আক্রমণ কুয়েতের জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি অবকাঠামোগত বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ কুয়েত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (পূর্বতন টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কুয়েত সিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারের পরিষেবা ভবনকে (Service Building) লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইরানি গোলার আঘাতে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় নিহত ভারতীয় নাগরিক ওই স্থাপনায় কারিগরি কাজে নিয়োজিত ছিলেন। কুয়েত কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে ইরানের ‘প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

সংঘাতের নেপথ্যে: ফেব্রুয়ারির সেই যৌথ হামলা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী একটি নজিরবিহীন হামলা চালায়, যাতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ কয়েক’শ মানুষ নিহত হন। এরপরই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা চালাবে। কুয়েতের এই বেসামরিক স্থাপনায় হামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

জরুরি অবস্থা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আক্রমণের পরপরই কুয়েত সরকার ওই এলাকায় ‘ইমারজেন্সি প্রোটোকল’ জারি করেছে। প্ল্যান্টের পরিচালন ক্ষমতা (Operational Capacity) বজায় রাখতে এবং পানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে কারিগরি ও উদ্ধারকারী দল (Technical and Emergency Teams) মোতায়েন করা হয়েছে। কুয়েতের নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি বর্তমানে ঘিরে রেখেছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। শোধনাগারটির আংশিক ক্ষতি হলেও বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়াতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

আঞ্চলিক অস্থিরতা ও লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী নিহত ইরানি হামলার রেশ কেবল কুয়েতে সীমাবদ্ধ নেই। লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (UNIFIL) সোমবার জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের আদচিত আল কুসায়রের কাছে তাদের একটি অবস্থান লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এতে ইউনিফিলের একজন শান্তি রক্ষী (UN Peacekeeper) নিহত হয়েছেন এবং অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। লেবানন ও কুয়েতে ঘটে যাওয়া এই সমসাময়িক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মহলে এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক স্থাপনা ও বিদেশি শ্রমিকদের ওপর এই ধরনের আক্রমণ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পানি সরবরাহের নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে। ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় দিল্লির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হবে।

Tags: middle east conflict infrastructure damage power plant unifil iran retaliation kuwait attack indian worker desalination plant kuwait city regional instability