• দেশজুড়ে
  • চসিক উদ্যোগে জিমনেশিয়াম মাঠে স্বাধীনতা বইমেলা আজ থেকে শুরু

চসিক উদ্যোগে জিমনেশিয়াম মাঠে স্বাধীনতা বইমেলা আজ থেকে শুরু

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
চসিক উদ্যোগে জিমনেশিয়াম মাঠে স্বাধীনতা বইমেলা আজ থেকে শুরু

শাহ আজম,চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে শুরু হচ্ছে ১৯ দিনব্যাপী ‘স্বাধীনতা বইমেলা’। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) নগরের জেলা স্টেডিয়ামসংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে আয়োজিত এই বইমেলায় চট্টগ্রাম ও ঢাকার ৯৬ প্রকাশনা সংস্থার ১৩১টি স্টল থাকছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ৫০ প্রকাশনার ৭২টি এবং ঢাকার ৪৬ প্রকাশনার ৫৯টি স্টল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজানের কারণে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে অমর একুশে বইমেলা হয়নি। পাঠকুলেখকদের আগ্রহ বিবেচনায় নিয়ে নতুন শিরোনামে এই স্বাধীনতা বইমেলার আয়োজন করেছে চসিক। মেলার আয়তন প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে মেলা। চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। ২০১৯ সাল থেকে সম্মিলিত উদ্যোগে চট্টগ্রামে এই বইমেলা হয়ে আসছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের মেলায় ১০৭ প্রকাশনা সংস্থার ১৪০টি স্টল থাকলেও এবার স্টল ও অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থার সংখ্যা কিছুটা কমেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বীর চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনা ধারণ করে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়াই এ আয়োজনের লক্ষ্য। চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকার স্বনামধন্য প্রকাশকরাও অংশ নিচ্ছেন। আশা করছি, এবারের বইমেলা আরও বেশি লেখকুপাঠকের মিলনমেলায় পরিণত হবে।’ তিনি বলেন, বইমেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি চট্টগ্রামের মানুষের সাংস্কৃতিক উৎসব। পাঠকুলেখক ও দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে দেখার সুযোগ পেতে মেলায় খোলা জায়গার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। মেলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

মেয়র জানান, পুরো মেলা প্রাঙ্গণ সিসিটিভির আওতায় থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাও দায়িত্ব পালন করবে। তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল পথে ফেরাতে বইমেলার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় জীবনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের ‘স্বাধীনতা সম্মাননা স্মারক’ প্রদান করা হবে। মেলা মঞ্চে প্রতিদিন আয়োজন করা হবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—রবীন্দ্র ও নজরুল উৎসব, লেখক সমাবেশ, যুব উৎসব, শিশু উৎসব, মুক্তিযুদ্ধ উৎসব, কবিতা উৎসব, আলোচনা, লোকউৎসব, নারী উৎসব, বৈশাখী উৎসবসহ নানা কর্মসূচি। দেশের প্রখ্যাত লেখক, কবি, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিকর্মীরা এসব আয়োজনে অংশ নেবেন।

এ ছাড়া প্রতিদিন শিশুদের চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, নৃত্য, গান ও উপস্থিত বক্তৃতার আয়োজন থাকবে। চট্টগ্রামের লেখকুসাহিত্যিকুসংস্কৃতিকর্মী ও বইপ্রেমীদের নিয়ে গঠিত উপুপরিষদের সহযোগিতায় প্রতিদিনের অনুষ্ঠানমালা সাজানো হয়েছে। মঞ্চে প্রতিদিন পরিবেশিত হবে মুক্তিযুদ্ধের জাগরণী ও দেশাত্মবোধক গান।

সংবাদ সম্মেলনে চসিকের সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, মেয়রের একান্ত সচিব অভিষেক দাসসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি শাহাবুদ্দীন হাসান বাবু বলেন, ‘ঢাকার বইমেলা এবার জমেনি। তাই ঢাকার প্রকাশকরাও চট্টগ্রামের এই মেলায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আমরা বেশ আশাবাদী।’