এর মাধ্যমে হাজারো কারিগরি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও কর্মসংস্থানে প্রবেশের পথ দ্রুততর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সভায় জানানো হয়, ইতোপূর্বে ডিপ্লোমা কোর্স তিন বছরেরই ছিল। পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি করে চার বছর করা হলেও পাঠ্যক্রমে (কারিকুলাম) তেমন কোনও মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়নি। নীতিনির্ধারকদের মতে, কোর্সের মেয়াদ এক বছর কমালে শিক্ষার্থীরা দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশ করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে এবং তাদের পরিবারের ওপর আর্থিক চাপও কমবে। তবে এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শিক্ষার মান এবং বাস্তবমুখী (প্র্যাকটিক্যাল) প্রশিক্ষণের মান যেন বজায় থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন কর্মকর্তাদের বিদ্যমান কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিকায়নের ওপর জোর দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষম দক্ষ জনবল গড়তে ‘মডেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ স্থাপনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেয়াদ কমানোর সিদ্ধান্তটি অবশ্যই একটি শক্তিশালী ও যুগোপযোগী পাঠ্যক্রমের সাথে সম্পর্কিত হতে হবে। সময় কমলেও তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের গ্রহণযোগ্যতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।