• দেশজুড়ে
  • বগুড়ার শেরপুরে মোটরসাইকেলের তেল সংকট, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে কার্যক্রমে গতি কমেছে

বগুড়ার শেরপুরে মোটরসাইকেলের তেল সংকট, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে কার্যক্রমে গতি কমেছে

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
বগুড়ার শেরপুরে  মোটরসাইকেলের তেল সংকট, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে কার্যক্রমে গতি কমেছে

বাদশা আলম, বগুড়া প্রতিনিধি :

মোটর সাইকেলের জ্বালানি তেলের সংকটের মুখে পড়েছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রশাসনে বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রমে মন্থরগতিও চলে এসেছে। এই সংকট অব্যাহত থাকলে আগামীতে তাদের মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রমে পরিচালনা নিয়ে আরো বেশি সমস্যার মুখে পড়তে হবে। উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে মোটর সাইকেল যোগে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকেন।

উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কার্যালয়সহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখিত দপ্তর গুলোর অন্তত শতাধিক কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়মিত তাঁরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকালে উপজেলা পরিষদে গেলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দপ্তরের মেকানিক পদে কর্মরত হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়নে টিউবওয়েল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম তাঁরা পরিচালনা করেন। এই কার্যক্রম করা নিয়ে তাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম মোটরসাইকেল। উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে মোটরসাইকেল যোগে তাদের মাঠ পর্যায়ে প্রতিদিন যেতে হয়। অন্তত এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় ফিলিং স্টেশন গুলোতে সময়মত গাড়িতে পেট্রোল না পাওয়ার কারণে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা নিয়েও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এই সমস্যা অব্যাহত থাকলে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আসাবুদ্দৌলা বিপ্লব বলেন, উপজেলার সীমাবাড়ি, ভবানীপুর ও বিশালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ তিনি তদারকি করেন। ওই সকল ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া উন্নয়নমূলক নতুন কার্যক্রম গ্রহনের লক্ষ্যে সড়ক পরিদর্শনের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তাঁর ওই সকল ইউনিয়ন গুলোতে মোটরসাইকেল আসা- যাওয়া যোগাযোগ করতে হয়। বর্তমানে মোটরসাইকেলের জ্বালানি পেট্রোল সংকটের কারণে প্রতিদিন বাড়তি টাকা ব্যয় করে সিএনজি গাড়ি ভাড়া করে আসা- যাওয়া করতে হচ্ছে। এই ব্যয়ের টাকা সম্পূর্ণরূপে তাঁর বেতনের টাকা থেকে খরচ করতে হচ্ছে। এভাবে টাকা ব্যয় অব্যাহত থাকলে তাদের পরিবারের ব্যয় মেটানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে।

উপজেলা এলজিইডি দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক বলেন, উপজেলার ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে প্রত্যেকটি উন্নয়ন ও মেরামত কাজ দেখভাল করতে তাদের আসা-যাওয়া করতে হয়। এক্ষেত্রে মোটর সাইকেলের কোনো বিকল্প নেই। মোটর সাইকেলের জ্বালানি তেলের জন্য স্থানীয় ফিলিং স্টেশন গুলোতে গেলেও পাওয়া যায় না। আবার অনেক সময় ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। এতে তাঁদের কাজের গতিও কিছুটা কমেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নিযায় কাযমীর রহমান বলেন, উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে গবাদি পশুর খামার রয়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের বাড়িতে একাধিক গরু- ছাগল রয়েছে। গ্রামগঞ্জে গবাদি পশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া উপজেলার ১০ জনের স্বেচ্ছাসেবীরা। চলমান সময়ে মোটর সাইকেলের জ্বালানি তেল সংকটের কারণে এসকল স্বেচ্ছাসেবীরা মোটর সাইকেল যোগে খামারে এবং কৃষকের বাড়িতে যেতে পারছে না। যেতে হচ্ছে বিকল্প হিসাবে অটোরিকশা অথবা সিএনজি চালিত গাড়ি করে। এতে তাঁদের বাড়তি খরচের মুখে পড়ছে এসকল স্বেচ্ছাসেবীরা।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী রিপা পারভিন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের টিউবয়েল গুলোতে সমস্যা জনিত কারণে তাদের প্রায়ই অত্যন্ত গ্রামে যেতে হয়। মোটর সাইকেলের তেল সময়মত না পাওয়ার কারণে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা নিয়েও সমস্যা শুরু হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার বলেন, তাদের কৃষিভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। চাষাবাদে কৃষকের সমস্যা নিয়ে তাদের প্রায় প্রতিদিনই গ্রামে গ্রামে যেতে হয়। এজন্যে তাঁরাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের যোগাযোগের একমাত্র বাহন মোটরসাইকেল। তাদের গাড়িগুলো জ্বালানি তেলের সংকটের মুখে পড়েছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা (এলজিইডি) আবদুল মজিদ বলেন, মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল না পাওয়ার কারণে তাদের সিএনজি চালিত গাড়ি ভাড়া করে চলতে হচ্ছে। এতে তাদের বেতন থেকে টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিয়ে সরকারি দপ্তর গুলোতে কাজের গতি মন্থর না হয় এজন্য জেলাভিত্তিক প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।

উপজেলার খামারকান্দি ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান বলেন, অন্তত ২০ দিন আগেও তাদের ইউনিয়ন বিভিন্ন এলাকায় উপজেলার কৃষি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও এলজিডি অফিসের কর্মরত কর্মকর্তা ও সহকারী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন কাজে তাঁদের এলাকায় আসতে দেখেছেন। এখন তাদের ঠিকমতো দেখাও যায় না।