উয়ারী বটেশ্বর গঙ্গাঋদ্ধি জাদুঘর এবং বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরষ্কারসহ বহু পুরষ্কার ও সম্মাননা প্রাপ্ত কিংবদন্তী-প্রত্নতত্ত্ব ও লোক সাহিত্য সংগ্রহক, গবেষক, ভাষাসৈনিক মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান স্মরণে গতকাল শনিবার নরসিংদী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক নাগরিক শোক সভার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ নরসিংদীর আয়োজনে অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক, বিশিষ্ট নাট্যকার ড.সায়মন জাকারিয়া ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুফি মুস্তাফিজুর রহমান অন্যতম অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। গঙ্গাঋদ্ধি সম্পাদক ইউসুফ সুমন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
ড. সায়মন জাকারিয়া বলেন, হাবিবুল্লা পাঠানের ইচ্ছে ছিল উয়ারি বটেশ্বরে তাঁর স্বপ্নের গঙ্গাঋদ্ধি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু জীবিত অবস্থায় তিনি তা করে যেতে পারেনি। আমরা চাই তাঁর স্বপ্নের জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হউক। অধ্যাপক সুফি মুস্তাফিজুর রহমান অবিলম্বে উয়ারি বটেশ্বরে হাবিবুল্লা পাঠানের স্বপ্নের জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নরসিংদী সরকারি কলেজ সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আলী, অধ্যক্ষ প্রফেসর গোলাম মোস্তাফা মিয়া, সাবেক উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন ভূইয়া,নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের চেয়ারম্যান ড.মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী, নরসিংদী ইন্ডিপেন্ডেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ ড.মশিউর রহমান মৃধা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য বাবু রঞ্জিত কুমার সাহা,মরহুম হাবিবুল্লা পাঠানের ভই বিশিষ্ট লেখক ভৈরব কলেজের মো: বরকতুল্লাহ পাঠান, অধ্যাপক মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠানের কন্যা--ফেরদৌসি পাঠান সুরভী, প্রগতি লেখক সংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মো.জাকির হোসেন, উদীচী নরসিংদী জেলার সভাপতি জাহানুল হক বাবুল,কল্লোল নাট্যসংস্থার সভাপতি শাহ আলম মিয়া, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি বাবু হলধর দাস,রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের নরসিংদী জেলার সাধারণ সম্পাদক রায়হানা সরকার, কবি দয়াল ফারুক,জাগরণী পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ডা.অছিউদ্দিন,সাটিরপাড়া কালিকুমার ইনস্টিটিউট স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক প্রধান শিক্ষক দেবব্রত সাহা,সবুজ পাহাড় কলেজের প্রভাষক মো.মোশাররফ হোসেন,নরসিংদী বিজ্ঞান কলেজের প্রভাষক নাজমূল আলম সোহাগ প্রমুখ। উল্লেখ্য, মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান- খ্যাপা খুঁজে ফেরে পরশ পাথর" গ্রন্থটিতে 'দুর্গনগরী' উয়ারী-বটেশ্বর 'গঙ্গাঋদ্ধি' জাদুঘর নির্মাণ- এখানকার মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার-সংগ্রহ-গবেষণা- গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, ব্যক্তিগত জাদুঘরে সযত্নে সংরক্ষণ, হেফাজত, সর্বসাধারণকে প্রতিদিন দেখানোর ব্যবস্থা করা, পরিচিতি তুলে ধরা, গবেষকগণের কাছে তথ্য সরবরাহ করা, লোক সাহিত্যের মূল্যবান উপাদান- যেগুলো আমাদের সমাজ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছিল সেগুলো সংগ্রহ ও গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে সর্বমহলে ছড়িয়ে দেওয়াসহ মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠানের জীবন ও কর্মের উল্লেখযোগ্য কিছু দিক তুলে ধরা হয়েছে। এসব মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক ও লোকসাহিত্যের উপাদান সংগ্রহ করে তিনি সর্বস্বান্ত হয়েছেন। হাবিবুল্লা পাঠানের ৮৬ বছরের সফল কর্মজীবনে দেশ জাতির জন্য বহু কাজ করেছেন। গবেষক ভাষাসৈনিক মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান গত ২১মার্চ২০২৬ তারিখে বটেশ্বর গ্রামে নিজ বাড়িতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।