বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) থেকে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন—ভোলার দৌলতখান থানার মিদ্দারহাট বাজারের দিদারুল্লাহ পলফন বাড়ির মো. শাহাব উদ্দিনের ছেলে মো. শাওন (২৩), চাঁদপুরের কচুয়া থানার খাদিজা মাজার কলাখাল এলাকার মো. কাশেমের ছেলে মো. হৃদয় ওরফে সাগর (২০), নগরের সদরঘাট থানার পশ্চিম মাদারবাড়ীর ৩ নম্বর স্ট্যান্ড রোড বাস্তহারা এসআরবি কলোনির মো. বাবুল ওরফে বাবু মিয়ার ছেলে মো. রাসেল ওরফে চেগা রাসেল (২৩) এবং ভোলার বোরহানউদ্দিনের মধ্যমতলী, জাহার আলী সরদার বাড়ির মাহফুজুল হকের ছেলে মো. ইমাম হোসেন (৪৪)।
এদের মধ্যে মো. শাওন নগরের পশ্চিম মাদারবাড়ীর এসআরবি ছোট মাঠ এলাকায়, মো. হৃদয় ওরফে সাগর সীতাকুণ্ডে, চেগা রাসেল নগরের আতুরার ডিপোর সামাদপুর ও মো. ইমাম হোসেন ডবলমুরিং থানার রশিদ বিল্ডিং ২নং গলির ফজল হকের কলোনির ভাই ভাই মঞ্জিলের ৩য় তলায় থাকেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে আগ্রাবাদ মোড়ের বিএম হাইটসের তৃতীয় তলায় নবাব অ্যান্ড কোম্পানি ও এনসি শিপিংয়ের অফিসের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে কর্মীরা দেখতে পান অফিস এলোমেলো, কাগজপত্র চারদিকে ছড়ানো এবং দক্ষিণ পাশের জানালার গ্রিল কাটা। পরে দেখা যায়, অফিসের বিভিন্ন ফাইল ক্যাবিনেট ভেঙে মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, তিনটি এফডিআর সনদ এবং একটি দাহুয়া ব্র্যান্ডের একটি ডিভিআর চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে ২০ ফেব্রুয়ারি থানায় মামলা হয়।
মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে পশ্চিম মাদারবাড়ী এলাকা থেকে মো. শাওন (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে শাওন জানায়, তিনি তার সহযোগী হৃদয় ও ‘চেগা রাসেল’কে সঙ্গে নিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে জানালার গ্রিল কেটে অফিসে ঢুকে টাকা পয়সা চুরি করে।
শাওনের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বৃহস্পতিবার বারিক বিল্ডিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে হৃদয় ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে যথাক্রমে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১ হাজার ডলার, এবং ৩ লাখ টাকা ও ৫০০ ডলার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তিনজনের লিডার মনির হোসেন চুরির পর মাশআল্লাহ এন্টারপ্রাইজের পরিত্যক্ত একটি কক্ষে টাকা ভাগ করে দেয়। প্রত্যেকে ৭ লাখ টাকা ও ৩ হাজার ডলার পায়। আশ্রয়দাতা ইমাম হোসেনও দুই লাখ টাকা ও এক হাজার ডলার পান। বাকি টাকা মনির নিজের কাছে রাখে।
পরবর্তীতে শুক্রবার বাংলাবাজার এলাকা থেকে ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তেলের ডিপুর একটি কক্ষ থেকে আরও ৪২ হাজার টাকা ও ৫০০ ডলার উদ্ধার করা হয়।
সিএমপি জানায়, চক্রের মূলহোতা মনির হোসেন এখনও পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারের অভিযান চলছে।