ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের সরাসরি হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে তিনি ইরানের সবকিছু উড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন এবং তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিভিন্ন স্থানে সেতু, ব্রিজ, কালভার্ট ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধসে পড়তে দেখা যাবে। তার এই বক্তব্যকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের কিছু কর্মকর্তা বর্তমানে আলোচনা করছেন এবং সোমবারের মধ্যে একটি চুক্তির ‘ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে। যদিও তেহরান এর আগে ট্রাম্পের এমন দাবিকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে।
ট্রাম্পের উদ্ভট বক্তব্য প্রসঙ্গে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি বলেছেন, ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টগুলো দেখে মনে হচ্ছে তিনি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইজাদি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে হুমকি, অশালীন ভাষা এবং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পুনরাবৃত্তি স্পষ্টভাবে তার মানসিক চাপের ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বলেন, ট্রাম্প ভেবেছিলেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে, হয়তো তিন দিনের মধ্যেই ইরানে সরকার পরিবর্তনের মতো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন।
অধ্যাপক ইজাদি বলেন, ইরানের নেতৃত্ব এখন এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে ট্রাম্পের মতো নেতার সঙ্গে আলোচনায় গিয়ে নিজেদের স্বার্থে কোনো অর্জন সম্ভব বলে মনে করছে না।
তার ভাষায়, একজন ইরানি রাজনীতিকের জন্য দেশের স্বার্থ ছেড়ে দেওয়া রাজনৈতিক আত্মহত্যার শামিল হবে এবং ইরানের জনগণও তা মেনে নেবে না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক নেতা নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। সেই সংঘাতের মধ্যেই ট্রাম্পের ধারাবাহিক হুমকিমূলক মন্তব্য পাশাপাশি তেহরানের পাল্টা হুমকি নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।