• দেশজুড়ে
  • ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেসে রুয়েট শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় স্থান অর্জন

ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেসে রুয়েট শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় স্থান অর্জন

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেসে রুয়েট শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় স্থান অর্জন

মোঃ আবুল বাশার, রাজশাহী প্রতিনিধি।

‎রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) গবেষণাদলের একটি গবেষণাকর্ম দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ষষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেসে’ অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তিন সদস্যের একটি গবেষক দল এই গৌরব অর্জন করে। গত শনিবার ও রবিবার (৪-৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে এই কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়। কংগ্রেসে দেশের তরুণ বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক গবেষণা, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

‎‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন। কংগ্রেসে বিভিন্ন সেশন, প্যানেল আলোচনা ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। যার মধ্যে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আল আমিন আল আজাদউল ইসলামের নির্দেশনায় ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুয়েল হোসেনের তত্ত্বাবধানে বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. মসফিকুর রহমান মারুফের গবেষণা প্রবন্ধটি ‘ফিজিক্যাল, কেমিক্যাল, ন্যাচারাল রিসোর্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স’ ক্যাটাগরিতে পোস্টার প্রেজেন্টেশন ইভেন্টে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

‎‎তার গবেষণার বিষয় ছিল- ‘কম্পিউটেশনাল ইনভেস্টিগেশন অব অ্যানোডিক ক্লোরিন ইভোলিউশন রিয়েকশন ওভার SiN₄ কো-ডোপ্ট গ্রাফিন ইলেক্ট্রোক্যাটালিস্ট।’ এই গবেষণায় ডেনসিটি ফাংশনাল থিওরি (ডিএফটি) ব্যবহার করে SiN₄ কো-ডোপ্ট গ্রাফিন ভিত্তিক একটি নতুন প্রজন্মের ইলেক্ট্রোক্যাটালিস্টের উপর অ্যানোডিক ক্লোরিন ইভোলিউশন রিঅ্যাকশন (সিইআর) বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

‎গবেষণা দলের তত্ত্বাবধায়ক রুয়েটের রসায়ন বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুয়েল হোসেন বলেন, ক্লোরিন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কাঁচামাল হিসেবে পলিমার, ফার্মাসিউটিক্যাল, টেক্সটাইল ও কাগজ শিল্পে ও পানি পরিশোধনে জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই গবেষণায় বর্তমানে প্রচলিত ক্লোরিন উৎপাদনের অত্যন্ত শক্তি-নির্ভর ও ব্যয়বহুল এবং নোবেল-মেটাল নির্ভর পদ্ধতিকে অতিক্রম করে পরিবেশবান্ধব, কম খরচের এবং মেটাল-ফ্রি কার্বন-ভিত্তিক ন্যানোম্যাটেরিয়ালকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা উচ্চ কার্যকারিতা ও কম ওভার পটেনশিয়ালে ক্লোরিন উৎপাদনে সক্ষম। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, উৎপাদন শিল্পে ক্লোরিনের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাশ্রয়ী ও দক্ষ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে ক্লোরিন উৎপাদন সম্ভব হলে তা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে শিল্পখাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করবে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে।

রুয়েট শিক্ষার্থীর এমন অর্জনে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি ভবিষ্যতেও তার এমন উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। ‎