পার্বত্য চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটিতে বর্ষ বিদায় ও বরণকে কেন্দ্র করে ‘বৈসাবি উৎসব’ ঘিরে এখন উৎসবমুখর। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম এই সামাজিক অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত এখন শহর, গ্রাম। বৃহস্পতিবার(৯এপ্রিল) সকাল থেকে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান,পাতা ও বিহু উপলক্ষে শুরু হয়েছে নানান ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান,পাতা ও বিহু উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত, সাবেক উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য উষাতন তালুকদার। উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার। এসময়, প্রধান অতিথি সাবেক সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য উষাতন তালুকদার বলেন, ‘পাহাড়ের ১৩টি ভাষাভাষী মানুষ বর্ষ বিদায় ও বরণকে কেন্দ্র করে এই উৎসব পালন করে থাকেন। বিজু মানে অস্তিত্ব,বিজু মানে সংস্করণ। আমরা অনেক ভাষা সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলেছি। আমাদের ভাষা সংস্কৃতিকে যেন ভুলে না যাই সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য অঞ্চলকে অবহেলিত উপেক্ষিত না রেখে আমাদেরকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করুন। আমরাও বাংলাদেশের নাগরিক,আমরাও মানুষ, আমরা মানুষের মতো মানুষ হিসেবে বেচে থাকতে চাই। পাহাড়ের জুন্ম জনগণের দেশের প্রতি অনেক অবদান আছে। মতভেদ থাকতে পারে আমরা বাংলাদেশী হিসেবে দেশের জন্য সকলে একতাবদ্ধ। তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধান না হওয়ার নয়, এটা জাতীয় সমস্যা,এটা রাজনৈতিক সমস্যা। স্বদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসলে অবশ্যই সমাধান হবে।
এ উৎসবকে কেন্দ্রকরে এক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়, শোভাযাত্রাটি রাঙ্গামাটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়।