• দেশজুড়ে
  • যবিপ্রবিতে কুকুরের কামড়ে আহত এক শিক্ষার্থী, ঝুকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

যবিপ্রবিতে কুকুরের কামড়ে আহত এক শিক্ষার্থী, ঝুকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
যবিপ্রবিতে কুকুরের কামড়ে আহত এক শিক্ষার্থী, ঝুকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

মোঃ রাব্বীল আলী যবিপ্রবি প্রতিনিধি:

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অভ্যন্তরে কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে যবিপ্রবির এক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, একাডেমিক ভবন,  হল ও হলের রাস্তা এবং ক্যাফেটেরিয়ার আশপাশে হিংস্র কুকুর কর্তৃক আক্রমণ ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে মাঝেমধ্যেই। এ নিয়ে ঝুকি বোধ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে যবিপ্রবির ফিশারিজ এন্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (এফএমবি) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত বিন খালিদ নামক এক শিক্ষার্থীকে পায়ে কামড় দেয় দলবদ্ধ কুকুর।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানায়, বুধবার রাত সাড়ে আটটার সময় ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মাঠে হঠাৎ ৮টি কুকুর রিফাতকে ঘিরে ধরে। এক পর্যায়ে তার মধ্যে থেকে কালো রঙের একটি কুকুর তার দিকে তেড়ে এসে কামড় দেয়। পরে সহপাঠীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

কুকুর আতংকে ফিনান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত আহমেদ বাপ্পী বলেন, ২-৩ দিন আগে সন্ধায় জগদীশ চন্দ্র একাডেমিক ভবনের পাশে আমরা দুইজন বন্ধু বসে ছিলাম হঠাৎ পেছন থেকে কুকুর হিংস্রভাবে ধাওয়া করে। কোনোমতে দৌড় দিয়ে বাঁচতে চাইলে কুকুরগুলো তীব্র বেগে পেছন থেকে দৌড়ে এসে আবার আক্রমণ করার চেষ্টা করে, পরে ঢিল মেরে কোনোমতে আত্মরক্ষা করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যবিপ্রবির এক শিক্ষক বলেন, দিনদিন কুকুরগুলো হিংস্র হয়ে উঠছে। ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাচ্চাদের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে। কুকুরের আক্রমনের বিষয়টি বাচ্চাদের  জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের আতংকিত করছে। এছাড়া এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আমরা চিন্তিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুততম সময়ে কুকুরের বিষয়ের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফাহিম খান রাতুল নামক এক শিক্ষার্থী তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, কুকুরের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিলে পশু প্রেমীরা এমনকি শিক্ষকরাও প্রতিবাদ করে বসেন।কিন্তু নিয়মিত কুকুরের আক্রমনে শিক্ষার্থীরা আহত হলে তখন প্রশাসন চুপ থাকে কেন?

মাহমুদুল হাসান নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, কুকুর নিয়ে প্রশাসন আছে আরেক সমস্যায়। কুকুর মারলে হয় আন্দোলন। আবার না ব্যবস্থা নিলে হয় কুকুরের আক্রমণ। প্রশাসনের উচিত একটি মধ্যমপন্থী ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে করে আতংকগ্রস্থ ও পশুপ্রেমিরা সন্তুষ্ট থাকে। আর যে শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় প্রশাসনের বহন করা উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিকিউরিটি এন্ড স্টেট শাখার দায়িত্বে থাকা সহকারী রেজিস্ট্রার ড. মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা প্রতি সপ্তাহে চেষ্টা করি স্টাফদের দিয়ে কুকুরগুলোকে তাড়িয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেই। বর্তমানে আগের মতো বেশী কুকুর দেখা যায়না খুব একটা। কুকুর মারা অপরাধ এজন্য হিংস্র হলেও আমরা মারতে পারিনা। আর ভ্যাক্সিন দিয়ে প্রতিকারের বিষয়টি কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে যে সিধান্ত হয় শনিবারে জানিয়ে দিব।