দীর্ঘদিনের অভিযোগ আর পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে অবশেষে কঠোর অবস্থানে গেল পরিবেশ অধিদপ্তর। কুড়িগ্রামের উলিপুর ও চিলমারী উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চারটি ভাটার কিলন গুঁড়িয়ে কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ভাটার মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে মোট ১৬ লাখ টাকা জরিমানা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পরিবেশ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে এ অভিযান চালানো হয়। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) লঙ্ঘনের দায়ে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে এক্সকাভেটর দিয়ে একের পর এক অবৈধ ভাটার কিলন ভেঙে ফেলা হয়। এতে এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এসব ভাটার কার্যক্রম। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি নষ্ট, বায়ুদূষণ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠেছিল। মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ এলাকার মেসার্স একেএম ব্রিকসে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তবকপুরের মেসার্স এইচবিইউ ব্রিকসে ৫ লাখ টাকা, চিলমারীর কিষামাতবানু এলাকার মেসার্স ওয়ারেস ব্রিকসে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মৌজাখানা এলাকার মেসার্স এসএন ব্রিকসে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মোট ১৬ লাখ টাকা ঘটনাস্থলেই আদায় করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাব-১৩, জেলা পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা অংশ নেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহাকারী পরিচালক সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম জানান, "অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ অভিযান কেবল শুরু—পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বায়ুদূষণ রোধ ও পরিবেশ রক্ষায় এমন অভিযান ধারাবাহিকভাবে আরও জোরদার করা হবে।"