তৃণমূল থেকে কেন্দ্র: এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক প্রোফাইল
যশোর-৫ (মণিরামপুর) এলাকার রাজনৈতিক ময়দানে মোছাঃ তহমিনা খাতুন কেবল একটি নাম নয়, বরং তিন দশকের এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৯৬ সালে কলেজ জীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আদর্শকে বুকে ধারণ করে পথ চলছেন। দীর্ঘ এই Political Career-এ তিনি স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও নিজের মেধা ও সাহসের স্বাক্ষর রেখেছেন।
তহমিনা খাতুন বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং জিয়া পরিষদের মহানগর মহিলা সম্পাদিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ঢাকা শেরেবাংলা নগর থানা জিয়া পরিষদের মহিলা সম্পাদিকা এবং মণিরামপুরের রামনগর ইউনিয়নে মহিলা দলের বিভিন্ন শীর্ষ পদে সফলতার সাথে কাজ করেছেন। তৃণমূলের প্রতিটি অলিগলি থেকে উঠে আসা এই নেতৃত্ব এখন যশোর-৫ সংরক্ষিত আসনের জন্য সবচেয়ে যোগ্য ও জনপ্রিয় দাবিদার হিসেবে আলোচিত হচ্ছেন।
জেল-জুলুম ও ত্যাগের এক অগ্নিপরীক্ষা
বিএনপির রাজনীতিতে তহমিনা খাতুনের নিষ্ঠা প্রমাণিত হয়েছে তাঁর দীর্ঘ ত্যাগের বিনিময়ে। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের নজিরবিহীন অভিযানের সময় তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে গ্রেপ্তার হন। এরপর ৩ মাস ১৭ দিন তাঁকে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কারাবরণ করতে হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একাধিক মামলার শিকার হয়েও তিনি তাঁর Political Ideology থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি। দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে রাজপথে থেকে কর্মীদের সাহস যুগিয়েছেন এই লড়াকু নেত্রী।
জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির ‘জুলাই যোদ্ধা’
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তহমিনা খাতুনের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। রাজপথে ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি সরাসরি সম্মুখ সমরে অংশ নেন এবং আহত হন। তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা তাঁকে একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা মনে করেন, এই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং ‘Women Empowerment’ নিশ্চিত করতে তাঁকে সংরক্ষিত আসনে সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
মণিরামপুরের নির্যাতিত ‘রাজনৈতিক দুর্গ’ এই পরিবার
তহমিনা খাতুনের পরিচয় কেবল তাঁর নিজের কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর পুরো পরিবারই মণিরামপুরে জাতীয়তাবাদের এক অজেয় দুর্গ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এই পরিবারের ওপর যে পরিমাণ দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, তা মণিরামপুরে বিরল।
মনিরুজ্জামান রুবেল (ছোট ভাই): মণিরামপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমানে পৌর যুবদলের এই প্রভাবশালী নেতা আওয়ামী শাসনামলে ছিলেন সবচেয়ে বড় ‘টার্গেট’। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১২টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। বারবার কারাবরণ করার পাশাপাশি তাঁকে নৃশংস পুলিশি রিমান্ড (Police Remand) মোকাবিলা করতে হয়েছে। তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের খতিয়ান দীর্ঘ।
জি এম মশিয়ার রহমান (বড় ভাই): পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি ও বর্তমান সহ-সভাপতি। তিনি এবং তাঁর পুরো পরিবার এলাকায় বিএনপির ‘Dedicated Activists’ হিসেবে পরিচিত।
পারিবারিক নিপীড়ন: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বারবার তহমিনা খাতুনের বাবার বাড়ির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। মোহনপুরের এই একমাত্র পরিবারটিই বছরের পর বছর ধরে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে চূড়ান্ত হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা
মণিরামপুর ও রামনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের সাধারণ মানুষ মনে করেন, তহমিনা খাতুন এবং তাঁর পরিবারের এই দীর্ঘ কারাবরণ ও রাজপথের লড়াইয়ের ইতিহাসই তাঁদের শ্রেষ্ঠ যোগ্যতার সনদ। এলাকার উন্নয়ন, নারীর অধিকার রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর মতো একজন ‘Uncompromising’ নেত্রীকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দিলে সেটি হবে মণিরামপুরের নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের প্রতি এক বড় ধরণের সম্মান প্রদর্শন। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও শক্তিশালী ‘Central Network’ ব্যবহার করে তিনি যশোর-৫ সংরক্ষিত আসনে বিএনপির অবস্থানকে আরও সুসংহত করবেন—এমনটাই সাধারণের বিশ্বাস।