সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ডিসিআর নিয়েও ৪০ শতক জমি ভোগ দখল করতে পারেননি অসহায় এক ভূমিহীন পরিবার। তৎকালীন সময়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতা মোটা অংকের টাকা উৎকোচের বিনিময়ে ডিসিআরের ওই সম্পত্তির একাংশ অপর এক ব্যক্তিকে দখল করে দিয়েছেন।
অবশেষে কয়েকদফায় গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে দীর্ঘবছর পর সরকারের কাছ থেকে নেওয়া ডিসিআরের পুরো সম্পত্তি ফিরে পেয়েছেন ভূমিহীন মোজ্জাম্মেল হাওলাদার। আওয়ামী লীগ নেতাদের দখল করে দেওয়া সম্পত্তিত্বে জনৈক তৈয়ব আলী মোল্লার অবৈধভাবে নির্মান করা টং ঘর নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মোজ্জাম্মেল হাওলাদার। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা গ্রামের।
রবিবার দুপুরে মোজ্জাম্মেল হাওলাদার জানিয়েছেন, ওই এলাকার সরকারি খাস জমি থেকে তিনি সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দীর্ঘবছর পূর্বে ৪০ শতক সম্পত্তি ডিসিআর নিয়েছেন। এরমধ্যে ২০ শতক নাল জমি। বাকি সম্পত্তিত্বে তিনি পানবরজসহ অন্যান্য ফলজ গাছ রোপন করেছেন।
মোজাম্মেল হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, তৎকালীন সময় তার ডিসিআর নেওয়া সম্পত্তির ওপর লোলুপ দৃষ্টি পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার। কৌশলে তারা মোটা অংকের টাকা উৎকোচ নিয়ে স্থানীয় তৈয়ব আলী মোল্লাকে ডিসিআর নেওয়া সম্পত্তির একাংশ দখল করিয়ে দেয়। সম্প্রতি রাতের আধাঁরে দখল করা সম্পত্তিত্বে তিনি (তৈয়ব আলী) একটি অস্থায়ী টং ঘর নির্মান করেন।
মোজাম্মেল হাওলাদার আরও জানিয়েছেন, অতিসম্প্রতি বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানোর পর তারা উভয়পক্ষকে যার যার কাগজপত্র নিয়ে বসার জন্য সময় নির্ধারন করেন। পরবর্তীতে অসংখ্যবার এনিয়ে মীমাংসা বৈঠকে বসা হলেও তৈয়ব আলী মোল্লা ওই সম্পত্তি তার পৈত্রিক হিসেবে দাবি করলেও তারপক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বিভিন্ন অযুহাতে তিনি (তৈয়ব আলী) সময়ক্ষেপন করতে থাকেন। সর্বশেষ গত ১১ এপ্রিল সকাল দশটায় সালিশগণের নির্ধারিত সময়েও তৈয়ব আলী তারপক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
সালিশ বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সালিশগণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও তৈয়ব আলী মোল্লা তাদের সামনে আসতে গড়িমসি করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘসময় পর সে এসে সালিশগণের কাছে পূর্ণরায় সময় দাবি করলেও তারপক্ষে কোন যুক্তিসংগত কারণ উপস্থাপন করতে পারেননি। পরবর্তীতে ওইসম্পত্তির পূর্ব পুরুষদের কাগজপত্র থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সালিশগণ উভয়পক্ষের সম্মতিত্বে স্থানীয় এক আমিনের মাধ্যমে পুরো জমি পরিমাপ করেন। পরবর্তীতে দেখতে পান তৈয়ব আলী মোল্লার দখলের উদ্দেশ্যে নির্মিত অস্থায়ী টং ঘর মোজাম্মেল হাওলাদারের নেওয়া ডিসিআরের সম্পত্তি। পরবর্তীতে তৈয়ব আলী মোল্লা ওই টং ঘর সরিয়ে নেওয়ার মুচলেকা দেয়ার জন্য সালিশগণ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। সালিশ বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, তৈয়ব আলী মোল্লা স্থানীয় কয়েকজন যুবকের মাধ্যমে তার নির্মিত টং ঘর সরিয়ে নিয়েছেন।
মোজাম্মেল হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, অবৈধভাবে দখল করা জমিতে তৈয়ব আলী মোল্লার নির্মিত টং ঘর তিনি (তৈয়ব আলী) তার লোকজন দিয়ে সরিয়ে নিলেও বর্তমানে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৈয়ব আলী তার মদদদাতা আওয়ামী লীগ নেতাদের পরামর্শে ওই টং ঘর আমরা ভেঙ্গে ফেলেছি বলে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।
অপপ্রচারের অভিযোগ অস্বীকার করে তৈয়ব আলী মোল্লা বলেন, আমার পৈত্রিক সম্পত্তি সরকার ডিসিআরের তালিকাভূক্ত করেছেন। এনিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আশা করছি আদালতের বিচারক আমার পক্ষে রায় প্রদান করবেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের জমির কাগজপত্র আদালতে থাকায় সালিশগণের কাছে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারিনি।